গত ২১ সেপ্টেম্বর তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে জানান, ১৬ অক্টোবর থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দেশের হলগুলো খুলে যাবে।

সেদিন তথ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘পরিস্থিতি এখন যে পর্যায়ে আছে, সেটি যদি কমতে থাকে তাহলে ১৬ অক্টোবর থেকে সিনেমা হল খুলতে পারি। সেক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি গ্রহণ করবো।’
সে হিসেবে আজ (১৩ অক্টোবর) থেকে সময় আছে মাত্র দু’দিন। কিন্তু এখনও প্রেক্ষাগৃহ সংশ্লিষ্ট কেউ-ই কোনও চিঠি পাননি বলে  নিশ্চিত করা হয়েছে। এ নিয়ে তৈরি হয়েছে অস্পষ্টতা।
সংশ্লিষ্ট কেউই জানেন না, আদৌ ১৬ অক্টোবর খুলছে কি বড় পর্দার চৌকাঠ? নিকট সময়ে সেটি খুলবে কি না, সে বিষয়েও তৈরি হলো শঙ্কা।
বিষয়টি নিয়ে কথা হয় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতির সভাপতি খোরশেদ আলম খসরুর সঙ্গে।

তিনি বললেন, ‘এই বিষয়ে কোনও তথ্য আমাদের কাছে এখনও আসেনি। এটা পুরোপুরি নির্ভর করছে মন্ত্রণালয়ের (তথ্য) ওপর। তারা যখন বলবে, তখনই হল খুলবে। তবে সেক্ষেত্রে প্রস্তুতির জন্য সময় দেওয়া উচিত।’
এর উল্টো কথা শোনা গেল প্রদর্শক সমিতির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মিঞা আলাউদ্দিনের কাছ থেকে। আজ (১৩ অক্টোবর) দুপুরে তিনি বলেন, ‘হল ১৬ অক্টোবরই চালু হচ্ছে। আমরা যতটুকু জেনেছি, আজ বিকাল চারটায় এ বিষয়ে একটি প্রেস নোট সব মিডিয়াতে যাবে। পাশাপাশি ডিসিদের (জেলা প্রশাসক) বিষয়টি অবগত করা হবে।’

কিন্তু বিকাল গড়ালেও এখনও কোনও সংবাদ বিজ্ঞপ্তি সংবাদমাধ্যমের হাতে আসেনি। দুপুরে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তেমন কোনও উত্তর পাওয়া হয়নি।
এদিকে, গতকাল (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় তথ্য মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা মীর আকরাম উদ্দিন আহম্মদ  বলেন, ‘আমি যতদূর জানি, বিষয়টি নিয়ে এখনও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তথ্যমন্ত্রীর আলোচনা হয়নি। দু’একেই সেটি হবে। পরে এটি নিয়ে বিস্তারিত বলতে পারব।’
অন্যদিকে একাধিক হল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রেক্ষাগৃহ খোলার বিষয়ে কেউ প্রস্তুতি নিয়েছে আবার অনেকেই নির্দেশনার অভাবে সেভাবে প্রস্তুতি নেননি।

দেশের সবচেয়ে আধুনিক প্রেক্ষাগৃহ স্টার সিনেপ্লেক্সের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক (বিপণন) মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশে করোনা শুরুর সময়ই আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে কিছুদিন সিনেপ্লেক্স পরিচালনা করি। এরপর পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় আমরা নিজেরাই প্রেক্ষাগৃহ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিই। তাই হল চালু হওয়া মাত্রই আমরা কার্যক্রমে ফিরব। এ জন্য আমাদের সব প্রস্তুতি রয়েছে।’
এদিকে, অনেকে আবার মনে করছেন নতুন ছবি ছাড়া এখন হল চালু করাটা ক্ষতি হতে পারে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রায় ২০টির মতো নতুন ছবি প্রস্তুত থাকলেও নির্মাতারা এখনই আগ্রহী নন এগুলো মুক্তি দিতে। তাই আছে সিনেমা সংকটও। হল মালিকদের চিন্তার কারণ