করোনার ছুটিতে সব শিক্ষককে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (স্কুল ও কলেজ) যাওয়ার প্রয়োজন নেই। শুধু প্রশাসনিক কাজের সঙ্গে জড়িত শিক্ষকরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাবেন।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের মাঠ পর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তাদের চিঠি দিয়ে এ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

২২ সেপ্টেম্বর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আকস্মিক পরিদর্শনের নির্দেশনা দেওয়া হলে অনেক প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের উপস্থিত থাকতে নির্দেশ দেন প্রতিষ্ঠান প্রধানরা। এই চিঠির ধারাবাহিকতায় এখনও কোনো কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পালাক্রমে শিক্ষকদের বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়। এতে সাধারণ শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।

বিষয়টি দুই মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে জানাজানির পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের আসার দরকার নেই বলে সরাসরি জানিয়ে দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব আকরাম-আল-হোসেন।

ওই চিঠির পরও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন উইং সব শিক্ষকের স্কুলে আসার প্রয়োজন নেই বলে নির্দেশনা দিয়ে চিঠি জারি করে।

চিঠিতে বলা হয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের মনিটরিং অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন উইং থেকে ২২ সেপ্টেম্বর ‘শিক্ষা কার্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ আকস্মিক পরিদর্শন’ শিরোনামে পত্র জারি করা হয়। তাতে করোনাকালীন পরিদর্শন তথ্য ছকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত তথ্যের ১১নং ক্রমিকে বর্ণিত সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়মিত উপস্থিত থাকেন কিনা এ বিষয়টি স্পষ্টীকরণের লক্ষ্যে বলা হচ্ছে, সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও কর্মচারী বলতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ল্যাব ও আইসিটি উপকরণসমূহ রক্ষণাবেক্ষণ ও সচল রাখা, নিয়মিত পতাকা উত্তোলন ও নামানো, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি মনিটরিং ইত্যাদি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও কর্মচারীদের বোঝানো হয়েছে, এ অর্থে সব শিক্ষক নয়।’

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের উপপরিচালক (মনিটরিং অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন উইং) অধ্যাপক আমির হোসেন স্বাক্ষরিত চিঠি অধিদফতরের সব আঞ্চলিক পরিচালক, সব জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা/থানা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া শিক্ষামন্ত্রী, উপমন্ত্রী, সচিবের দফতরে বিষয়টি অবহিত করে চিঠির অনুলিপি দেয়া হয়।

করোনার কারণে ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের মধ্যে অনলাইন, টিভি, বেতারে ক্লাস পরিচালনা করছেন শিক্ষকরা।