প্রথম বল ১৪৮.২ কিমি. ছক্কা, দ্বিতীয় বল ১৫২.৩ কিমি. এক রান, তৃতীয় বল ১৫২.১ কিমি. এক রান, চতুর্থ বল ১৪৬.৪ কিমি. চার, পঞ্চম বল ১৫৬.২ কিমি. চার এবং ষষ্ঠ বল ১৫৫.২ কিমি. বোল্ড- এটি বুধবার রাতে হওয়া দিল্লি ক্যাপিট্যালস ও রাজস্থান রয়্যালসের মধ্যকার ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসের তৃতীয় ওভারের বিবরণী।

যেখানে ব্যাটসম্যান ছিলেন রাজস্থানের জস বাটলার এবং বোলার দিল্লির পেসার অ্যানরিচ নর্টজে। আগুনে গতির ওভারটিতে প্রথম পাঁচ বলে একাই ১৫ রান নেন বাটলার। তবে শেষ বলে তাকে বোল্ড করে লড়াইয়ে জয়টা নিজের করে নেন নর্টজে। যেমনটা পরে ম্যাচের ফলও নিজেদের দিকে নিয়ে নিয়েছিল দিল্লি।

তবে নর্টজের করা ঐ ওভারের বিশেষত্ব হলো, আইপিএল ইতিহাসে এর চেয়ে দ্রুতগতির ডেলিভারি আর হয়নি। সেই ওভারের পঞ্চম বলটি ছিল প্রতি ঘণ্টায় ১৫৬.২ কিলোমিটার গতিবেগের। আইপিএল ইতিহাসে এর চেয়ে দ্রুতগতির ডেলিভারি আর হয়নি। শুধু তাই নয়, আইপিএল ইতিহাসে দ্রুতগতির তিন ডেলিভারির রেকর্ডও নর্টজের দখলে।

আইপিএল ইতিহাসে দ্রুতগতির ডেলিভারিগুলো (২০১২ সাল থেকে)
১/ অ্যানরিচ নর্টজে – ১৫৬.২ কিমি প্রতি ঘণ্টা
২/ অ্যানরিচ নর্টজে – ১৫৫.২ কিমি প্রতি ঘণ্টা
৩/ অ্যানরিচ নর্টজে – ১৫৪.৭ কিমি প্রতি ঘণ্টা
৪/ ডেল স্টেইন – ১৫৪.৪ কিমি প্রতি ঘণ্টা
৫/ কাগিসো রাবাদা – ১৫৪.২ কিমি প্রতি ঘণ্টা

তবে মাঠে খেলার সময় নর্টজে টের পাননি যে দ্রুতগতির ডেলিভারিটি সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। ম্যাচ শেষে এটি জানার পর প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘আমি পরে জানতে পেরেছি রেকর্ডের ব্যাপারে। ঐ সময় বুঝতে পারিনি। গতি বাড়ানোর জন্য কঠিন পরিশ্রম করে চলেছি আমি। দুই পা এবং ডান হাতের কার্যকরিতা আরও বাড়াতে কাজ করছি আমি। তবে গতির সঙ্গে আবার সঠিক জায়গায় বোলিং করাও জরুরি।’

মজার বিষয় হলো, নর্টজের করা সবচেয়ে দ্রুতগতির ডেলিভারিটিতে স্কুপ করে ফাইন লেগে চার মেরেছিলেন বাটলার। তবে বোল্ড হয়ে যান ১৫৫.২ কিমি গতিতে করার পরের ডেলিভারিতেই। বাটলারের বিপক্ষে লড়াইটি উপভোগ করেছেন দীর্ঘদেহী এ প্রোটিয়া পেসার।

তার ভাষ্য, ‘বাটলারের বিপক্ষে লড়াইটা দুর্দান্ত ছিল। আমি জানি যে সে স্কুপ শট খেলে, তবু যখন প্রথম স্কুপটা করলো, আমি অবাক হয়ে যাই। আমি ভাবিওনি যে সে আবার একই শট খেলবে। কিন্তু পরের বলেই আবার স্কুপ করে এবং দারুণভাবে খেলে। তবে আমি নিজের শক্তির ওপরেই নির্ভর করছিলাম। উইকেটের চরিত্র বুঝে কিছু বৈচিত্র আনার চেষ্টায় ছিলাম।’

এসএএস/পিআর