আন্তর্জাতিক ফুটবল, ঘরোয়া টুর্নামেন্ট ও উয়েফা চ্যাম্পিয়ন লিগ মিলিয়ে ঠাসা সূচির কারণে দলের অন্যতম সেরা তারকা নেইমার জুনিয়রকে বিশ্রাম দিয়েছিলেন প্যারিস সেইন্ট জার্মেই কোচ থমাস টুখেল। দলে ছিলো না অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়াসহ নিয়মিত খেলোয়াড়দের অনেকেই। তবু জয় পেতে কোনো সমস্যা হয়নি লিগ ওয়ানের চ্যাম্পিয়নদের।

শুক্রবার রাতে ফ্রেঞ্চ লিগ ওয়ানের ম্যাচ নিমসের বিপক্ষে ৪-০ গোলে জিতেছে পিএসজি। দলের নিয়মিত খেলোয়াড়দের অনেকে না থাকলেও, তরুণ তারকা কাইলিয়ান এমবাপের জোড়া গোলে এসেছে এই সহজ জয়। এছাড়া অন্য দুই গোল করেছেন আলেসান্দ্রো ফ্লোরেঞ্জি ও পাওলো সারাভিয়া।

প্রতিপক্ষের মাঠে খেলতে গিয়ে পুরো ম্যাচটা নিজেদেরই করে নিয়েছিল পিএসজি। ম্যাচশেষে স্কোরলাইন ৪-০ হলেও, গোলের সংখ্যা হতে পারতো আরও অনেক বেশি। পুরো ম্যাচে অন্তত ৩০ বার আক্রমণে উঠেছে পিএসজি। যেখানে ঠিক লক্ষ্য বরাবর তারা শট নিয়েছে ১১ বার। কিন্তু এর মধ্যে গোল পেয়েছে শুধু চারবার।

অবশ্য ম্যাচের শুরুতেই পিএসজির কাজ খানিকটা সহজ হয়ে যায় লাল কার্ডের কল্যাণে। ম্যাচের ১২ মিনিটের সময় পিএসজি মিডফিল্ডার রাফিনহাকে গুরুতর ফাউল করে সরাসরি লালকার্ড দেখেন নিমস ডিফেন্ডার লইক লান্দ্রে। ফলে ম্যাচের বাকি সময়টা একজন কম নিয়েই খেলতে হয়ে নিমসকে।

সেই সুযোগটাও বারবার কাজে লাগিয়েছেন পিএসজির ফরোয়ার্ড ভাগের খেলোয়াড়রা। একটু পরপরই তারা হানা দিয়েছেন প্রতিপক্ষের রক্ষণে। তবু গোলের দেখা পেতে অপেক্ষা করতে হয়েছে ৩২ মিনিট পর্যন্ত। রাফিনহা এগিয়ে দেয়া বল ধরে বাম পায়ের কোনাকুনি শটে ম্যাচের প্রথম গোলটি করেন এমবাপে।

এরপর শুধু চলতে থাকে পিএসজির আক্রমণ আর আক্রমণ; যার সবগুলোই ছিলো নিষ্ফলা। একজন কম নিয়ে খেলেও পিএসজিকে আটকে রাখার কাজটা দুর্দান্ত করছিল নিমস। গোলরক্ষক বাতিস্ত রেনেত ঠেকিয়ে দেন একের পর এক প্রচেষ্টা, সঙ্গে পান ভাগ্যের ছোঁয়াও। কিন্তু শেষের ১৫ মিনিটে আর পারেননি দলকে বাঁচাতে।

ম্যাচের ৭৭ মিনিটের সময় দ্বিতীয় গোলটি করেন ফ্লোরেঞ্জি, এর মিনিট ছয়েক পর আবার স্কোরশিটে নাম তোলেন এমবাপে। আর ৮৮ মিনিটের মাথায় জাল কাঁপিয়ে হালিপূরণ করেন সারাভিয়া। সহজ জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে পিএসজি।

এ জয়ের পর ৭ ম্যাচে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে লিগ ওয়ানের হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়নরা। দুই নম্বরে থাকা রেনের সংগ্রহ ৭ ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট। পিএসজির কাছে হালি হজম করা নিমসের সংগ্রহ ৭ ম্যাচে ৮ পয়েন্ট, অবস্থান ১৩তম।