বাবার মৃত্যুর একদিন পরই সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নামতে হয়েছে কিংস এলেভেন পাঞ্জাবের ভারতীয় ব্যাটসম্যান মানদ্বীপ সিংকে। একদিকে বাবাকে হারানোর শোক, অন্যদিকে আইপিএলে টিকে থাকার চ্যালেঞ্জ- কঠিন এ পরিস্থিতিটা নিজের ব্যাট দিয়েই জয় করেছেন ২৮ বছর বয়সী এ ডানহাতি ওপেনার।

সোমবার রাতে হায়দরাবাদের বিপক্ষে পাঞ্জাবের ৮ উইকেটের সহজ জয়ে বড় অবদান রেখেছেন মানদ্বীপ। মাত্র [২৯ বলে ৫১ রানের ঝড় তুলে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন ক্রিস গেইল, তবে ইনিংসের সূচনা করতে নেমে শেষপর্যন্ত খেলে ৫৬ বলে ৬৬ রান করে দলকে জিতিয়েই মাঠ ছেড়েছেন মানদ্বীপ। এটি ছিল পাঞ্জাবের টানা পঞ্চম জয়।

নিজেদের ইনিংসের ১৬তম ওভারে ব্যক্তিগত অর্ধশত পূরণ করেছিলেন মানদ্বীপ। এরপর তেমন কোনো উদযাপন না করে সরাসরি তিনি তাকান আকাশপানে, যেনো বুঝিয়ে দেন এই ইনিংসটি প্রিয় বাবার জন্যই। কঠিন চাপ নিয়ে খেলতে নেমে এমন ব্যাটিংয়ের জন্য সতীর্থরা তাকে দাঁড়িয়ে সম্মান জানিয়েছে।

ম্যাচশেষে মানদ্বীপ জানিয়েছেন, তার বাবার সবসময়ের ইচ্ছা ছিল যে, তিনি প্রতি ম্যাচে নটআউট থাকবেন। নিয়তির কী খেল! বাবার মৃত্যুর পর খেলা প্রথম ম্যাচেই অপরাজিত থেকে দলকে জিতিয়েছেন মানদ্বীপ। যে কারণে প্রয়াত বাবার কথা আরও বেশি বেশি মনে পড়ছে তার।

তিনি বলেন, ‘বাবা সবসময় আমাকে বলতেন, তোমার প্রতি ম্যাচেই নটআউট থাকা উচিত। এ জিনিসটাই আজকে করতে চেয়েছি। এমনকি ম্যাচের আগেও রাহুলকে (লোকেশ রাহুল) বলছিলাম, আমাকে আমার খেলাটা খেলতে দেয়া হোক। হয়তো প্রথমে কিছু বল নেবো, তবে দলের জন্য ম্যাচ ঠিকই জেতাতে পারব। আমি মনে করি, বাবা এখন থাকলে অনেক খুশি হতেন যে, আমি ম্যাচ শেষ করতে পেরেছি।’

এবারের আসরের প্রথম সাত ম্যাচে মাত্র ১টি জিতেছিল পাঞ্জাব, তখন পয়েন্ট টেবিলে তাদের অবস্থান ছিল সবার নিচে। অষ্টম ম্যাচ থেকেই ঘুরে দাঁড়িয়েছে পাঞ্জাব। টানা পাঁচটি ম্যাচ জিতে এখন ১২ ম্যাচ শেষে পয়েন্ট টেবিলে চার নম্বরে উঠে এসেছে তারা। যার ফলে উজ্জ্বল হয়েছে প্লে-অফে খেলার সম্ভাবনা।

এমন প্রত্যাবর্তনের পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মানদ্বীপ বলেছেন, ‘এটা পুরোপুরি আমাদের আত্মবিশ্বাস, যা আমরা শেষের কয়েক ম্যাচে দেখাতে পেরেছি। যাই হোক না কেন, পাঞ্জাবি লড়াইটা প্রতি ম্যাচেই দেখাতে হবে আমাদের। আইপিএলে অন্যতম সেরা দল আমরা এবং আমাদের স্বাধীনভাবেই খেলা উচিত। শুরুর দিকে দূর্ভাগ্য ছিল, এখন ম্যাচগুলো আমাদের পক্ষে আসছে।’

ক্রিস গেইলের সঙ্গে ১০.১ ওভারে ১০০ রানের জুটির ব্যাপারে তার ভাষ্য, ‘আমার সৌভাগ্য যে ক্রিস গেইল, এবি ডি ভিলিয়ার্স, বিরাট কোহলিদের মতো খেলোয়াড়দের সঙ্গে খেলার অভিজ্ঞতা পেয়েছি। গেইলের সঙ্গে আমার শুরুটা ২০১০ সালে, কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে। তখন থেকেই আমরা দুজন বন্ধু। সে খুবই বিনয়ী। তার সঙ্গে ব্যাটিং করাটা খুব সহজ।’