নজমুল হুদা শাহীন : সরকারি হিসেবে সাভার পৌরসভার নির্বাচিত জন প্রতিনিধিদের মেয়াদকাল আরও দু’ মাসের অধিক সময় বাকী। কিন্তু ইতোমধ্যে সাভারে পৌর নির্বাচনের বাতাস বইতে শুরু করেছে। আগ্রহী প্রার্থী ও তাদের কর্মী সমর্থকগণ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রত্যাক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে কাউন্সিলর প্রার্থীরাও পিছিয়ে নেই। কোন কোন প্রার্থীর ব্যানার ফেস্টুন বেশ চোখে পড়ার মতো। তবে প্রচার-প্রচারণায় খুবই সরব রয়েছে সম্ভাব্য আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা। তারা সংখ্যায়ও অধিক।

সভা সমাবেশের মাধ্যমে অনেকে মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছেন। অনেক প্রার্থী ঘরোয়া ও সামাজিক বৈঠকের মাধ্যমে আগাম প্রচারণায় ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছেন। প্রার্থীদের কেউ কেউ ঘনিষ্ঠ কর্মীদের নিয়ে সাভারের বাহিরে পর্যটন সমৃদ্ধ এলাকায় বেড়াতে গিয়ে তাদের মনোবল চাঙ্গা করার খবরও রয়েছে। প্রার্থীদের অনেকেই করোনাকালীন সময়ে দরিদ্র অসহায় মানুষের মাঝে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রী ত্রাণ হিসেবে বিতরণ করে জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছেন। এভাবেই অনেকেই আলোচনায় এসেছেন। তারা সাধ্যমত সাহায্য সহযোগিতা করেছেন ভবিষ্যতে নির্বাচনে অংশ নিয়ে সমাজসেবার আশায়। ইতোমধ্যে বড় দুই দলের প্রার্থী কারা হবেন তা নিয়ে হিসেব নিকেষ ও চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। গত পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীদের ভোটের ব্যবধান খুব একটা বেশি ছিল না। বলা চলে, লড়াই হয়েছিল হাড্ডাহাড্ডি।

সাভার পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান মেয়র হাজী আবদুল গণি নিজের প্রার্থী হওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। তিনি বিভিন্ন সভায় তার দায়িত্ব পালনকালে সড়ক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নসমূহ বিভিন্ন সভায় তুলে ধরছেন। আগামী সাভার পৌরসভা নির্বাচনে তার নাম প্রার্থী হিসেবে বেশ জোরে শোরে শোনা যাচ্ছে। ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার নাম ভেসে বেড়াচ্ছে।
অপর সম্ভাব্য প্রার্থী সাভার পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার প্যানেল মেয়র কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম মানিক মোল্লা। তার কর্মী সমর্থকগণ ইতোমধ্যে আগামী পৌর নির্বাচনে তাকে প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান এবং পৌরবাসীর দোয়া চেয়ে বিভিন্ন স্থানে তার পোস্টার ব্যানার ও ফেস্টুন টানিয়েছেন। যা চোখে পড়ার মতো। এ ছাড়া তিনি সম্প্রতি সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের পরিচিতি সভায় শত শত নেতাকর্মীর সামনে প্রার্থী হতে চেয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে বক্তব্য রেখে আলোচনায় আসেন।

সাভার বিশ^বিদ্যালয় কলেজের সাবেক জিএস ও ঢাকা জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান ওরফে জিএস মিজান-এর কর্মী, ভক্ত সমর্থকগণ সোস্যাল মিডিয়ায় তাঁর প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি প্রচার করেছেন। তিনি দলের বিভিন্ন পর্যায়ে লবিং করে চলছেন বলেও জানা গেছে। তিনি করোনাকালীন সময়ে যথেষ্ট পরিমাণ ত্রাণ সহায়তায় যুক্ত ছিলেন। তিনি সাভারের রাজনীতিতে ক্লিন ইমেজের নেতা হিসেবেও অধিক পরিচিত। ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুদ চৌধুরী আসন্ন সাভার পৌরসভা নির্বাচনে নিজেকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছেন। তিনি দলের হাই কমান্ডের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করছেন বলে তার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়। সাম্প্রতিক করোনা মহামারিকালে তার অফিস হিসেবে পরিচিত সাভার পাবলিক লাইব্রেরী হতে তিনি অসহায় দরিদ্র মানুষের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ ও সমাজ উন্নয়নমূলক কাজ করে আলোচনায় রয়েছেন।

সাভার এলাকার সাবেক সংসদ সদস্য সাবেক পৌর চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা আশরাফ উদ্দিন খান ইমুর কনিষ্ঠ পুত্র গোলাম ফয়েজ উদ্দিন খান শিহাবের পক্ষে মেয়র প্রার্থী হিসেবে ইতোমধ্যে পৌর এলাকায় বেশ পোস্টারিং ও ফেস্টুন লক্ষ্য করা গেছে। নব গঠিত উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক সাংবাদিক কামরুজ্জামান খান আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী। তিনি ‘গ্রীণ সাভার, ক্লিন সাভার’ শ্লোগান নিয়ে দীর্ঘদিন বক্তব্য দিয়ে আসছেন। তার পক্ষে পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে ব্যানার ফেস্টুন দেখা গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি এলাকায় অসহায় মানুষের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করে আলোচনায় এসেছেন। মনোনয়নের ব্যাপারে দলের উচ্চ পর্যায়ে এ বিষয়ে যোগাযোগ করছেন বলে তিনি জানান। এ ছাড়াও আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা যথা সময়ে সাভার পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে মনোনয়ন চাইবেন বলেও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

অপরদিকে সাভার পৌরসভা এলাকা স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ নিজেদের ভোট ব্যাংক বলে দাবি করেন। আসন্ন নির্বাচনে পৌর বিএনপির সভাপতি সাবেক ছাত্র নেতা খন্দকার শাহ মাইনুল হোসেন বিল্টু দলের মনোনয়ন চাইবেন বলে বেশ জোরে শোরে শোনা যাচ্ছে। দলীয় রাজনীতির কারণে তিনি দীর্ঘদিন কারাবাস করেছেন। এ ছাড়া তিনি বর্তমানে সাভার পৌর সভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ৩ বারের নির্বাচিত কাউন্সিলর।
বিএনপির অপর সম্ভাব্য প্রার্থী গত পৌর নির্বাচনে যিনি মামলার কারণে প্রচারনার মাঠে না থেকেও হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে অবতীর্ন হয়েছিলেন সেই হাজী বদরুজ্জামান বদির এর নাম এবারেও শোনা যাচ্ছে। তিনি সাভার পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাভার বিশ^বিদ্যালয় কলেজের সাবেক ভিপি।

সাভার পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি আলহাজ¦ মোঃ রেফাত উল্লাহ দলের প্রার্থী হবেন বলে শোনা যাচ্ছে। তিনি রাজনৈতিক মামলায় দীর্ঘদিন কারাবাস করেছেন। বিএনপির প্রার্থী হিসেবে তিনবার তিনি পৌরসভা নির্বাচনে অংশ নেন। একবার তৎকালীন স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফ উদ্দিন খান ইমুর নিকট পরাজিত হলেও পরে তাকে দুইবার পরাজিত করে তিনি পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন।
বিএনপির আরেক সম্ভাব্য প্রার্থী পৌর বিএনপির সহসভাপতি ও ঢাকা জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট নাজিম উদ্দিন। তিনিও সাভার পৌর নির্বাচনে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন।
তবে আসন্ন সাভার পৌরসভা নির্বাচনে উভয় কোন দলের কে দলীয় মনোনয়ন পাচ্ছেন তা সময়ই বলে দিবে। সম্ভব্য প্রার্থীরা দলীয় মনোনয়ন পেতে দৌঁড়ঝাপ শুরু করেছেন। পৌরসভার বর্তমান পরিষদের মেয়াদ ২০২১ সলের ২৭ ফেব্রুয়ারি শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। সে হিসেবে আগামী ডিসেম্বরে নির্বাচন অনুষ্ঠানের সম্ভাবনা বেশ উজ্জল। তাই প্রার্থীরা কৌশলী হয়ে আরও আগে থেকেই ভোটের হিসেব নিকাশ শুরু করেছেন। বিগত ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর সাভার পৌরসভা নির্বাচনে মোট ভোটার ছিল ১ লাখ ৬৯ হাজার ৮ শ’ ৫৪ জন। তবে শিল্প এলাকা সাভার পৌর শহরের ভোটার হাল নাগাদ হয়ে এবারে সংখ্যা আরও বেড়েছে। সে সংখ্যাটি খুব শীঘ্রই জানা যাবে বলে জানান সাভার উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ফকরউদ্দিন। এ নির্বাচন কর্মকর্তা পৌরসভা নির্বাচনের তফসিল কবে নাগাদ ঘোষণা হতে পারে সে সম্পর্কে সুষ্পষ্ট কোন তথ্য নেই বলে জানান তিনি।