রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের ফটকে বাইরে স্ত্রী ও ছেলেমেয়েদের নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন পাবনা ঈশ্বরদীর বাসিন্দা বৃদ্ধ আবদুল আলিম। দুদিন আগে মগবাজারে ছেলের বাসায় বেড়াতে এসেছেন। অনেকবার ঢাকায় এলেও ব্যস্ততায় জাতীয় জাদুঘরটি ঘুরে দেখা হয়ে ওঠেনি। গতকাল মঙ্গলবার টিকিট দেয়া কক্ষের সামনে গিয়ে দেখতে পান সেখানে বড় একটি ব্যানার ঝুলছে। তাতে লেখা রয়েছে-‘১ নভেম্বর থেকে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর খুলে দেয়া হচ্ছে। গেটে কোনো টিকিট বিক্রি হবে না, অনলাইনে টিকিট কিনতে হবে। জাতীয় জাদুঘরের ওয়েবসাইট থেকে ই-টিকিট কিনতে হবে।’

আবদুল আলিমের হাতে মোবাইল ফোন থাকলেও ইন্টারনেট সংযোগ ছিল না। ফলে ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও জাদুঘর দেখতে পারছেন না তিনি।

jagonews24

আবদুল আলিম  বলেন, ‘আমি একজন অশিক্ষিত মানুষ। অনলাইন ইন্টারনেট বুঝি না। টিকিট কেটে প্রবেশের সুযোগ থাকলে জাদুঘর ঘুরে দেখতে পারতাম। এখন কী করব বুঝতে পারছি না।’

কথাগুলো বলে সামনে এগোতে থাকলেন এই বৃদ্ধ।

মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকি থাকায় ১ নভেম্বর থেকে সীমিত পরিসরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে জাতীয় জাদুঘর খুলে দেয়া হয়েছে।তবে অনলাইনে টিকিট কাটার বাধ্যবাধকতা থাকায় আবদুল আলিম আলমের মতো অনেকেই ফিরে যাচ্ছেন।

jagonews24

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, জাতীয় জাদুঘরের সামনে বেশ কয়েকটি পরিবার জটলা পাকিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। করোনার কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর জাতীয় জাদুঘর খুলে দেয়ার ঘোষণায় তারা সপরিবারের ঘুরতে এসেছেন। কিন্তু অনলাইনে টিকিট কেনার বাধ্যবাধকতা থাকায় প্রবেশ করতে পারছেন না তারা।

জাদুঘরের ফটকে স্ক্যানিং মেশিন বসানো হয়েছে। জ্বর পরিমাপক যন্ত্র নিয়ে একজন দাঁড়িয়ে আছেন। যারা অনলাইনে টিকিট কাটতে পারছেন তাদেরকে জ্বর মেপে ও মাস্ক পরিধান করিয়ে তবেই ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে।

গাজীপুর থেকে ঢাকায় আত্মীয়ের বাসায় স্বামী ও সন্তানসহ বেড়াতে এসেছেন গৃহবধূ সালমা বেগম। দুই মেয়েকে নিয়ে গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিনি  বলেন, ‘অনলাইনে টিকিট কাটার ব্যাপারে তারা জানতেন না। এটি জানার পর স্বামী টিকিট কিনতে ইন্টারনেট প্যাকেজ কিনে আনতে গেছেন।’

jagonews24

সালমা বেগমের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা দু্ই মেয়ে বারবার জিজ্ঞাসা করছিল, ‘মা, আমরা কি আজ জাদুঘরে ঢুকতে পারব না?’

রাজধানীর কলাবাগানের বাসিন্দা আতাহার হোসেনও ছেলেমেয়েদের নিয়ে ঘুরতে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘করোনার কারণে দীর্ঘদিন ঘরবন্দি থাকায় সন্তানরা হাঁপিয়ে উঠেছে। ঢাকা শহরে ঘুরে বেড়ানোর স্থানের অভাবের কারণে জাদুঘরেই নিয়ে এসেছেন। কিন্তু অনলাইনে টিকিট কাটতে না পেরে সন্তানদের নিয়ে লালবাগের কেল্লায় চলে যাচ্ছেন বলে জানান।

তবে তরুণদের প্রায় সকলেই ইন্টারনেট ব্যবহারে অভ্যস্ত হওয়ায় তাদের গেটে দাঁড়িয়ে খুব অল্প সময়েই অনলাইনে ই-টিকিট কেটে গেটে দেখিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতে দেখা গেছে। কিন্তু তথ্যপ্রযুক্তিতে পিছিয়ে তারা মন খারাপ করে বাড়ি ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন।