জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে রাস্তার পাশে কাফনের কাপড় পরে শুয়ে আছেন বেশ কয়েকজন নারী-পুরুষ। সবাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্যানেলভুক্ত শিক্ষক নিয়োগ প্রত্যাশী। গত ১৮ দিন ধরে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করছেন তারা। অনশনের এতদিন পার হলেও আজও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া মেলেনি।

অনশন করতে গিয়ে তাদের মধ্যে দেড় শতাধিক শিক্ষক অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ও বাসায় থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তবে তারা দমে যাওয়ার পাত্র নন। অনশনকারীরা বলছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরে যাবেন না তারা।

Primary-3.jpg

শুক্রবার সকালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ প্যানেল-২০১৮ প্রত্যাশী কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. আবু হাসান  বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা হলাে একটি দেশের শিক্ষার মূল ভিত্তি। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের অদৃশ্য জটিলতার কারণে ২০১৮ সালের প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও নিয়োগ বঞ্চিত আমরা। নিয়োগ বাণিজ্য ও নিয়োগের দীর্ঘসূত্রিতা যার অন্যতম প্রধান কারণ।

তিনি বলেন, ২৪ লাখ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫৫ হাজার ২৯৫ জন লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন, যা অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থীর মাত্র দুই দশমিক তিন শতাংশ। তাদের মধ্যে ১৮ হাজার ১০৭ জনকে চূড়ান্তভাবে সুপারিশ করা হয়েছে, যা মোট পরীক্ষার্থীর মাত্র শূন্য দশমিক ৫৬ শতাংশ। সাড়ে তিন হাজার কর্মস্থলে যোগদান করেন নি। তারা মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা-২০১৮ এর অপেক্ষমান তালিকা থেকে নিয়োগ প্রদান ও প্যানেল পদ্ধতি প্রবর্তনের দাবিতে আমরণ অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন।

Primary-3.jpg

আবু হাসান বলেন, রিট জটিলতার কারণে ২০১৪ হতে ২০২০ সাল পর্যন্ত ৬ বছরে মাত্র ১টি নিয়ােগ সম্পন্ন হয়। এ সময়ে সেশনজটের কবলে পড়ে যারা বয়স হারিয়ে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হন, তারা কী দোষ করেছেন? কেন নিয়মিত বিজ্ঞপ্তি হতে বঞ্চিত হয়েছে? কেন সংবিধানে উল্লিখিত আইনে সাম্যতা পাবে না?

১৮০ জনের বেশি সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী যৌক্তিক দাবি প্যানেল ২০১৮ সালের সহকারী শিক্ষক নিয়ােগ প্রদানের জন্য জোরালাে সুপারিশ করবেন বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশ প্রাইমারি এডুকেশন অ্যানুয়াল সেক্টর পারফরমেন্স ২০১৯- এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাত্র ১ জন শিক্ষক দ্বারা শিক্ষাদান চলছে ৭৯টি বিদ্যালয়ে। ২ জন ও ৩ জন শিক্ষক দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে যথাক্রমে ১ হাজার ১২৪টি ও ৪ হাজার ৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়।