নিজস্ব প্রতিবেদক:বড় লোকসানে নিমজ্জিত হয়ে পড়ায় পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বাংলাদেশ সার্ভিসের পরিচালনা পর্ষদ ২০২০ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের কোনো ধরনের লভ্যাংশ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এর মাধ্যমে টানা ছয় বছর কোম্পানিটির লভ্যাংশ থেকে বঞ্চিত হলেন বিনিয়োগকারীরা। অথচ একটা সময় শেয়ারহোল্ডারদের নিয়মিত ১০ শতাংশের ওপরে লভ্যাংশ দিয়েছে এই কোম্পানিটি। অবশ্য সেই লভ্যাংশ ছিল বোনাস শেয়ার নির্ভর।

২০২০ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত বছরের পাশাপাশি চলতি বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়েও কোম্পানিটি লোকসানের মধ্যে পড়েছে।

কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ সভা শেষে প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। বুধবার (১১ নভেম্বর) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।

ডিএসই জানিয়েছে, লভ্যাংশের বিষয়ে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের নেয়া সিদ্ধান্ত শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদনের জন্য বার্ষিক সাধারণ সভার (এজিএম) তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২৩ ডিসেম্বর। আর রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ১ ডিসেম্বর।

সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি লোকসান করেছে ৪ টাকা ৭৩ পয়সা আর শেয়ারপ্রতি সম্পদ মূল্য দাঁড়িয়েছে ঋণাত্মক ৬ টাকা ৭৬ পয়সা।

ডিএসই জানিয়েছে, লভ্যাংশ ঘোষণার কারণে আজ কোম্পানিটির শেয়ারের দাম বাড়ার ক্ষেত্রে কোনো সার্কিট ব্রেকার থাকবে না। অর্থাৎ শেয়ার দাম যতখুশি বাড়তে পারবে। তবে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) নির্ধারিত সীমার নিচে শেয়ার দাম নামতে পারবে না।

সরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানটি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় ১৯৮৪ সালে। তালিকাভুক্তির পর ২০১৪ সাল পর্যন্ত বিনিয়োগকারীদের অনেকটাই নিয়মিত লভ্যাংশ দেয় কোম্পানিটি।

এর মধ্যে ২০১২, ২০১৩ ও ২০১৪ সালে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের ১৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার লভ্যাংশ হিসেবে দেয়। তার আগে ২০১০ ও ২০১১ সালে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ হিসেবে দেয় ২০ শতাংশ বোনাস শেয়ার।

এদিকে কোম্পানিটি চলতি বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে শেয়ারপ্রতি লোকসান করেছে ১ টাকা ২৪ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে শেয়ার প্রতি মুনাফা হয় ৪৪ পয়সা।

লোকসানের পাশাপাশি কোম্পানিটির সম্পদ মূল্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর শেষে শেয়ারপ্রতি সম্পদ মূল্য দাঁড়িয়েছে ঋণাত্মক ৮ টাকা, যা চলতি বছরের জুন শেষে ছিল ৬ টাকা ৭৬ পয়সা।