চাঁদপুর সংবাদদাতা  : ভাইরে কিভাবে যে দিন কাটতাছে হেইঠা শুধু আল্লাহই জানে। নিষেধাজ্ঞা শেষ হইলো, কিস্তিতে টাকা লইয়া নৌকা আর জাল ঠিক কইরা অনেক আশা ভরসা লইয়া নদীতে নামলাম মাছ ধরতে। কিন্তু খালি জালই ফালাইয়া গেলাম মাছ আর উঠে না।’

বুকভরা কষ্ট নিয়ে কথাগুলো বলছিলেন মেঘনার বুকে মাছ ধরে সংসার চালানো জেলে হাশিম আলি।

কথাগুলো শুধু হাশিম আলির নয় বরং এই সময়ের মেঘনা নদীর সকল জেলের। নদীতে যেভাবে আকাল পড়েছে জেলেদের সংসার চালানো এখন দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আলাপকালে বেশ কয়েকজন জেলে জানান, নদীতে কোনো মাছ নেই। যা পায় তার মধ্যে জাটকা ইলিশ বেশি থাকে। ঠিকমতো তেলের খরচ ওঠানো এখন সম্ভব হচ্ছে না। সংসার চালাতে খুব কষ্ট হচ্ছে তাদের।

 

jagonews24

রোববার (১৫ নভেম্বর) চাঁদপুর বড়স্টেশন মাছ ঘাট ঘুরে দেখা গেলো একই চিত্র। যেমন মাছশূন্য তেমনি ক্রেতা নেই। নেই সেই প্যাকেটটিংয়ের ব্যস্ততাও। পুরো আড়ত যেন খাঁ খাঁ করছে।

এ সময় কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, এ সময় মাছ একটু কমই থাকে তবে অন্য বছরের তুলনায় এ বছর একটু বেশিই কম।

আবার কেউ কেউ বললেন, এখন যে মাছ নদীতে পাওয়া যাচ্ছে তার বেশিই হলো জাটকা। আশা করি ১৫-২০ দিন পর বড় ইলিশ পাওয়া যাবে।

নদীতে মাছ না থাকার বিষয়ে গবেষক ড. আনিসুর রহমান জানান, ইলিশ মাছ পরিভ্রমণশীল। তারা দল ধরে চলাফেরা করে এবং সাগর থেকে উপকূল হয়ে প্রধান নদ-নদীতে আসে। মূলত ব্রিডিংয়ের সময়কাল আগস্ট থেকে শুরু হয়ে সেপ্টেম্বর, অক্টোবর মাস পর্যন্ত চলে।

jagonews24

তিনি বলেন, এর আরেকটি মাইনর প্রজনন কালও রয়েছে। জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি, মার্চ ও এপ্রিল এই চার মাস ধীরে ধীরে তাদের প্রজনন বৃদ্ধি করে। এ সময় মূলত মাছগুলো তাদের খাদ্য আহরণ করার জন্য নদীতে আসে এবং নদী থেকে খাদ্য আহরণ করেই আকৃতি বৃদ্ধি করে।

এর মাঝামাঝি সময়টাতে যখন কার্তিক মাস চলে আসে এবং তাপমাত্রাও কমে যায় তখন মাছ কম পাওয়া যায়। তবে হতাশ হওয়ার কিছুই নেই, জেলেদের কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। আশা করি জানুয়ারি থেকে নদীতে পর্যাপ্ত মাছ পাওয়া যাবে।