সিলেটের কুমারগাঁও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির (পিজিসিবি) উপকেন্দ্রে অগ্নিকাণ্ডে দুই দিন ধরে বিদ্যুৎহীন সিলেট। মঙ্গলবার (১৭ নভেম্বর) সকালে লাগা এ আগুনে সিলেট ছাড়াও মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের বিস্তৃর্ণ এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের দুই শতাধিক কর্মী উপকেন্দ্রের পাওয়ার ট্রান্সফরমার মেরামতে কাজ করে যাচ্ছেন। বিদ্যুৎ সঞ্চালনের জন্য গত ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে শ্রমিকরা ক্লান্তিহীনভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। কাজ তদারকি করছেন প্রকৌশলৗসহ বিদ্যুৎ বিভাগের বিশেষ একটি টিম। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে বুধবার (১৮ নভেম্বর) বিকালের দিকে ডিভিশন ১ ও ২-এর আওতাধীন নগরীর এলাকাগুলোতে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হতে পারে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের প্রধান প্রকৌশলী (বিক্রয় ও বিতরণ) খন্দকার মোকাম্মেল হোসেন বলেন, ‘সিলেট মহানগরীর প্রায় তিন লাখ গ্রাহক বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছেন। সেই সঙ্গে ভোগান্তিও পোহাচ্ছেন মহানগরীর বাসিন্দারা। মেরামত করা কিছু পিলার পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হবে। একটি ট্রান্সফরমার গাজীপুরের টঙ্গী থেকে সিলেটে নিয়ে আসা হয়েছে। সেটি স্থাপন কাজ শেষ হলে হয়তো পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা।’

সিলেট সিটি করপোরেশনের পানি সরবরাহ শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী আলী আকবর জানান, মহানগরীতে প্রায় সাড়ে ৮ লাখ বাসিন্দার দৈনিক পানির চাহিদা রয়েছে ৮ কোটি লিটার। এর মধ্যে ৪ থেকে ৫ কোটি লিটার সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ সরবরাহ করতে পারে। যদিও নগরে সাড়ে ৫৪ হাজার হোল্ডিংয়ের মধ্যে পানির গ্রাহক রয়েছেন সাড়ে ১৬ হাজার। বিদ্যুৎকেন্দ্রে আগুন লাগার আগে প্রায় এক কোটি লিটার পানি সরবরাহ করা গেছে। এ অবস্থায় নগরবাসী হঠাৎ করে তীব্র পানির সংকটে পড়ে গেছেন। বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ঠিকভাবে পানি সরবরাহ করা সম্ভব হবে না জানিয়ে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটি

কুমারগাঁও উপকেন্দ্রের পাওয়ার ট্রান্সফরমারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মঙ্গলবার চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেয় পাওয়ার গ্রিড অব কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেড (পিজিসিবি)। পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেড (ট্রান্সমিশন ২)-এর প্রধান প্রকৌশলী সাইফুল হককে আহ্বায়ক করে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন– তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বি এম মিজানুর রহমান, মোহাম্মদ ফয়জুল কবির ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেড (শ্রীমঙ্গল) নির্বাহী প্রকৌশলী আব্বাস উদ্দিন।