মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে দীর্ঘ সাড়ে সাত মাস বন্ধ থাকার পর শর্তসাপেক্ষে গত ১ নভেম্বর খুলেছে জাতীয় চিড়িয়াখানা। এরপর থেকে বিভিন্ন বয়সী দর্শনার্থীরা ছুটে আসছেন। তবে চিড়িয়াখানায় ঢোকার পর দর্শনার্থীরা কোনো স্বাস্থ্যবিধি মানছে না।

শুক্রবার (২০ নভেম্বর) চিড়িয়াখানা ঘুরে দেখা গেছে, মুখে মাস্ক পরে চিড়িয়াখানায় প্রবেশ করছে দর্শনার্থীরা। প্রবেশের আগে থার্মোমিটার দিয়ে প্রত্যেকের শরীরের তাপমাত্রা মাপা হচ্ছে, হাত স্যানিটাইজার দেয়া হচ্ছে। কিন্তু প্রবেশের পর আর স্বাস্থ্যবিধি মানছে না কেউ। বিভিন্ন মোড়ে চিড়িয়াখানার নিরাপত্তা কর্মীরা মাস্ক পরার অনুরোধ করাসহ স্বাস্থ্যবিধি মানার অনুরোধ করছে। কিন্তু তাদের কথার তোয়াক্কা করছে না দর্শনার্থীরা। নানা অজুহাতে অনেকেই মাস্ক খুলে ফেলছেন, মানছে না সামাজিক দূরত্ব।

Zoo-3.jpg

মিরপুর ৬০ ফিট থেকে চার বন্ধ মিলে চিড়িয়াখানায় ঘুরতে এসেছেন আদনান। তাদের কারো মুখেই মাস্ক ছিল না। এর কারণ জানতে চাইলে আদনান বলেন, ‘মাস্ক সব সময়ই পরি। এখানে খোলা জায়গা দেখে খুলে রেখেছি। আর মাস্ক পরলে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়।’

শিশুদের নিয়েও অনেক অভিভাবক চিড়িয়াখানায় ঘুরতে আসছেন। আর আজ সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় সকাল থেকেই দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়তে থাকে। শিশুরা ফাকা জাঁয়গা পেয়ে ছোটাছুটিতে মেতেছে।

Zoo-3.jpg

চাচার সঙ্গে দিনাজপুর থেকে চিড়িয়াখানায় ঘুরতে এসেছে কারীব ও পুতুল। তারা প্রথমবার চিড়িয়াখানায় এসেছে। খুব কাছ থেকে বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী দেখে অবাক তারা। কারীব  বলে, ‘আমি হরিণকে পাতা খাইয়েছি। বাঘ, সিংহ, কুমিরও দেখেছি। আমার অনেক ভালো লাগছে।’

চিড়িয়াখানার তথ্য কর্মকর্তা ডা. মো. ওয়ালিউর রহমান বলেন, ‘আমরা দর্শনার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি মানতে বারবার অনুরোধ করছি। আমাদের লোকজন মনিটরিং করছেন। তারপরও এত মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করা একটু কঠিন।’

উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত প্রতি মাসের প্রথম রোববার দর্শনার্থীদের জন্য চিড়িয়াখানায় প্রবেশ ফ্রি করে দেয়া হয়েছে।