নিজস্ব প্রতিবেদক:আর্থিকভাবে খুব একটা স্বচ্ছল পরিবার থেকে উঠে আসেননি ভারতীয় পেসার মোহাম্মদ সিরাজ। পরিবারের কষ্ট, বাবার লড়াইটা তিনি বুঝতে পারেন পুরোপুরি। বাবা মোহাম্মদ গাউসের অটোরিকশা চালানোর কষ্টের টাকায় সংসারের খরচের পাশাপাশি চলতো সিরাজের ক্রিকেট অনুশীলন।

কঠোর পরিশ্রমের ফলস্বরুপ সিরাজ যখন প্রতিষ্ঠিত ক্রিকেটার হয়ে অর্থ উপার্জন শুরু করেন, সবার আগে বাবাকে মুক্তি দেন অটোরিকশা চালকের জীবন থেকে, পরিবারের জন্য বানান নতুন একটি বাড়ি। কিন্তু সেই ক্রিকেটের কারণেই এবার বাবাকে শেষবারের মতো দেখতে পারলেন না সিরাজ, থাকা হলো না জানাজা-দাফনের সময়ও।

শুক্রবার ভারতের হায়দরাবাদে ফুসফুসজনিত সমস্যায় ইন্তেকাল করেছেন সিরাজের ৫৩ বছর বয়সী মোহাম্মদ গাউস। কিন্তু সিরাজ এখন জাতীয় দলের সঙ্গে রয়েছেন অস্ট্রেলিয়া সফরে। করোনাভাইরাসের কারণে কোয়ারেন্টাইন এবং ভ্রমণবিষয়ক বিধিনিষেধের কারণে ভারতে ফিরে যাওয়া সম্ভব নয় সিরাজের পক্ষে।

সিডনিতে জাতীয় দলের অনুশীলন থেকে ফিরে বাবার মৃত্যুর খবর পেয়েছেন ২৬ বছর বয়সী পেসার সিরাজ। নিজের খেলোয়াড়ি ও ব্যক্তিগত জীবনে যার অবদান সবচেয়ে বেশি, সেই বাবাকে শেষবারের মতো দেখতে পারেননি সিরাজ। এর আগে মাত্র ৭ বছর বয়সে বড় ভাইকেও হারিয়েছেন তিনি।

বাবার বড় একটি ইচ্ছার কথা জানিয়ে সিরাজ বলেছেন, ‘আমার বাবার সবসময় একটি ইচ্ছা ছিল, আমার ছেলে দেশের নাম উজ্জ্বল করবে তুমি। আমি নিশ্চয়ই এটা করব। আমি জানি আমার ক্রিকেট অনুশীলন চালিয়ে নেয়ার জন্য শুরুর দিনগুলোতে বাবা অটোরিকশা চালিয়ে কতটা কষ্ট করেছেন।’

দলের হেড কোচ রবি শাস্ত্রী এবং অধিনায়ক বিরাট কোহলির কাছ থেকে দুঃসংবাদটা পান সিরাজ। পরে তিনি বলেছেন, ‘এটা মর্মান্তিক খবর। আমি জীবনের সবচেয়ে বড় সাপোর্টটা হারিয়ে ফেললাম। আমাকে দেশের জন্য খেলতে দেখা তার স্বপ্ন ছিল। কোচ শাস্ত্রী স্যার এবং ক্যাপ্টেন কোহলি আমাকে খবরটা জানিয়েছেন। তারা আমাকে শক্ত থাকতে বলেছেন এবং সবধরনের সমর্থন-সহায়তার কথা বলেছেন।’

উল্লেখ্য, এবারের আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে ম্যাচে দুই মেইডেন ওভার করে ইতিহাস গড়েছেন সিরাজ। সে ম্যাচে তার বোলিং ফিগার ছিল ৪-২-৮-৩; যা কি না একপর্যায়ে ছিল ২-২-০-৩! ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের সুবাদে অস্ট্রেলিয়া সফরের দলেও জায়গা হয়ে গেছে এখনও পর্যন্ত ৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা সিরাজের।