সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে সুরমা নদীতে সেতুর অভাবে দুর্ভোগে আছেন সমগ্র উপজেলাবাসী। নদীর পূর্ব তীরে প্রধান ব্যবসাকেন্দ্র সাচনাবাজার এবং পশ্চিম তীরে উপজেলা প্রশাসন, স্কুল-কলেজ ও হাসপাতাল।

উপজেলাকে দুইভাগে বিভক্ত করা সুরমা নদী পারাপারের একমাত্র ভরসা নৌকা। নৌকা দিয়ে নদী পারপারের জন্য চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় সবাইকে। স্থানীয়দের দাবী জামালগঞ্জের সুরমা নদীতে দ্রুত সেতু নির্মাণের।

সোমবার (২৩ নভেম্বর) জানা গেছে, ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত জামালগঞ্জ উপজেলা। জনসংখ্যা দুই লাখেরও বেশি। মাঝ দিয়ে প্রবাহিত সুরমা নদী বিভক্ত করেছে উপজেলাটি। নদীর দুই তীরে রয়েছে তিনটি করে ইউনিয়ন। নদী পারাপারের একমাত্র ভরসা নৌকা। পূর্ব তীরের লোকজনকে স্কুল-কলেজ, ব্যাংক, প্রসানিক ও স্বাস্থ্যসেবা পেতে যেতে হয় পশ্চিম তীরের উপজেলা সদরে।

অন্যদিকে পশ্চিম তীরের তিনটি ইউনিয়নের লোকজন নদী পেরিয়ে যেতে হয় সাচনাবাজারসহ জেলা সদরে। নৌকা দিয়ে নদী পারপারের জন্য চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় সবাইকে।

এদিকে জামালগঞ্জ উপজেলা সদর এলাকার তিনটি ইউনিয়নের লোকজনকে জেলা সদর ও সাচনাবাজারে যেতে ফেরির জন্য অপেক্ষা করতে হয় দীর্ঘক্ষণ। একইভাবে চিকিৎসাসহ নানা সেবা পেতে উপজেলা সদরে যেতে ফেরি ঘাটে সময় অপচয় হয় পূর্বতীরের সাচনা বাজারের লোকজনের।

স্থানীয়দের দাবি, সুরমা নদীতে সেতু নির্মাণ হলে এই অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ লাঘব হবে। অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি জীবনমান ও ব্যবসা বাণিজ্যেরও উন্নতি হবে।

জামালগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা তনুজ সরকার জাগো নিউজকে জানান, সুরমা নদীর উপর একটি সেতু হলে ৬ ইউনিয়নের মানুষের কষ্ট লাঘব হবে কারণ ফেরির জন্য আমাদের দুই পারের মানুষকে র্দীঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। আর বর্ষার মৌসুমে নদী পারাপার হতে আমাদের অনেক ভয় হয়, কারণ যে কোনো সময় বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

সাচনা বাজার ইউনিয়নের বাসিন্দা অনিক আহমেদ জানান, আমরা সাচনা বাজারের ৩টি ইউনিয়নের মানুষ খুব কষ্টে আছি, একজন রোগীকে নিয়ে আমরা জামালগঞ্জ সদরে যেতে ফেরির জন্য র্দীঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। আমরা এই কষ্ট থেকে মুক্তি চাই।

সাচনা বাজার ইউনিয়নের বাসিন্দা রকি আহমেদ জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমরা অনুরোধ জানাই জামালগঞ্জের সুরমা নদীতে দ্রুত সেতু নির্মাণ করে ভাটি অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ লাঘব করুন এটাই আমাদের এলাকাবাসীর দাবি।

জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিশ্বজিৎ দেব জানান, একতীরে উপজেলা প্রশাসন কাঠামো, অন্য তীরে ঐতিহ্যবাহী বাজার। দুইটি এলাকা সুরমা নদীর কারণে বিভক্ত। সেতু নির্মাণ করলে সংযোগ স্থাপিত হবে এবং তিনটি ইউনিয়ন বাজারের সুবিধা পাবে। সেজন্য সেতু নির্মাণের প্রয়োজন রয়েছে। ইঞ্জিনিয়ার অফিস যাচাই-বাচাই করছে, আশা করি পজিটিভ সিদ্ধান্ত পাওয়া যাবে।

সুনামগঞ্জ এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহবুব আলম জাগো নিউজকে জানান, জনগণের দুর্ভোগ লাঘবের জন্য জামালগঞ্জ-সাচনাবাজারের মধ্যবর্তী সুরমা নদীতে সেতু নির্মাণের জন্য একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। সেতুর ডিজাইন কার্যক্রমের প্রণয়ন চলছে। এপ্রোচসহ ১২১০ মিটার দৈর্ঘ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তবে জায়গা নির্ধারণ করে চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা হবে। এই সেতু নির্মাণ হলে হাওরাঞ্চলের উড়াল সেতুর সাথে সংযোগ স্থাপিত হবে। এতে জনগণের আর্থ-সামাজিক ও পর্যটনের ব্যাপক উন্নয়ন হবে।