বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপের উদ্বোধনী ম্যাচের প্রথম ইনিংসটা হয়ে রইল পুরোপুরি বৈচিত্র্যপূর্ণ। পাওয়ার প্লে’তে ছড়ি ঘুরিয়েছিল রাজশাহী। পরেই আবার ঘুরে দাঁড়ায় ঢাকা। যখন মনে হচ্ছিল হয়তো বড় সংগ্রহ দাঁড় করাতে পারবে না টস হেরে ব্যাট করতে নামা রাজশাহী, তখনই পাল্টা আক্রমণ সাজান শেখ মেহেদি হাসান ও নুরুল হাসান সোহান। যার সুবাদে রাজশাহী পেয়েছে ১৬৯ রানের বড় সংগ্রহ।

অথচ ইনিংসের অর্ধেক শেষ হওয়ার আগেই সাজঘরে ফিরে গিয়েছিলেন মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহীর পাঁচ ব্যাটসম্যান। পঞ্চম ব্যাটসম্যান হিসেবে ফজলে রাব্বি যখন ফিরে যান, তখন রাজশাহীর সংগ্রহ ৯.৪ ওভার শেষে ৫ উইকেটে ৬৫ রান। বেক্সিমকো ঢাকার বোলারদের তোপে তখন অল্পেই গুটিয়ে যাওয়ায় শঙ্কায় রাজশাহী।

তবে তাদের পথ দেখিয়েছেন ছয় ও সাত নম্বরে নামা নিচের সারির দুই ব্যাটসম্যান শেখ মেহেদি হাসান ও নুরুল হাসান সোহান। দুজনের কাউন্টার অ্যাটাকে দিশেহারা ঢাকার শক্তিশালী বোলিং লাইনআপ। এর সঙ্গে তরুণ ওপেনার আনিসুল ইসলাম ইমনের ঝড়ো সূচনা মিলিয়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৬৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছে রাজশাহী। ম্যাচ জিততে ঢাকার লক্ষ্য ১৭০ রান।

উদ্বোধনী ম্যাচে টস জিতে রাজশাহীকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন ঢাকার অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম। আগে বোলিংয়ে নেমে দুর্দান্ত প্রথম ওভার করেন রুবেল হোসেন। সে ওভারের প্রথম পাঁচ বলে রানই নিতে পারেননি রাজশাহী অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। শেষ বলে সিঙ্গেল নিয়ে মেইডেন ঠেকান তিনি।

দ্বিতীয় ওভারে অপর ওপেনার আনিসুল ইসলাম ইমন শুরু করেন ঝড়ো ব্যাটিং। মেহেদি হাসান রানার করা মুখোমুখি প্রথম দুই বলে হাঁকান বাউন্ডারি। প্রথমটি স্কয়ার লেগ দিয়ে পাঠান ফ্লিক শটে, দৃষ্টিনন্দন শটে কভার অঞ্চল দিয়ে সীমানাছাড়া করেন পরেরটি। এই ইতিবাচক শুরুটা নিজের পুরো ইনিংসেই ধরে রাখেন ২৩ বছর বয়সী এ ডানহাতি ওপেনার। খেলেন ৫ চার ও ১ ছয়ের মারে ২২ বলে ৩৫ রানের ঝড়ো ইনিংস।

ইনিংসের চতুর্থ ওভারে নাসুম আহমেদকে জোড়া ছক্কা হাঁকান শান্ত। তবে তৃতীয় ছক্কার খোঁজে ধরা পড়ে যান লংঅনে দাঁড়ানো তানজিদ হাসান তামিমের হাতে। আউট হওয়ার আগে ১৬ বলে ১৭ রান করেন শান্ত। এরপর হতাশ করেন রনি তালুকদার (৮ বলে ৬) ও মোহাম্মদ আশরাফুল (৯ বলে ৫)। দূর্ভাগ্যবশত কোনো বল না খেলেই রানআউট হন ফজলে রাব্বি।

রাব্বি রানআউট হন দশম ওভারের চতুর্থ বলে। সে ওভারের দ্বিতীয় বলে নাইম হাসানকে উইকেট ছেড়ে মারতে গিয়ে স্ট্যাম্পিং হন আনিসুল ইমন। অষ্টম ওভারের শেষ বলে ইনসাইড আউট করে হাঁকানো ছক্কাটিই ছিল তার ২২ বলে ৩৫ রানের ইনিংসের বড় বিজ্ঞাপন। তবে ইমনের এমন ইনিংসের পরেও ১০ ওভার শেষে রাজশাহীর সংগ্রহ ছিল ৫ উইকেটে ৬৭ রান।

সেখান থেকে ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে পাল্টা আক্রমণ করেন মেহেদি ও সোহান। দুজন মিলে গড়েন ৮৯ রানের জুটি, তাও কি না মাত্র ৪৯ বলে। এ জুটির কল্যাণেই মূলত দেড়শ পেরিয়ে যায় রাজশাহীর ইনিংস। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫০ রান করেন মেহেদি। মাত্র ৩২ বলের ইনিংসে ৩ চারের সঙ্গে ৪টি ছক্কা হাঁকান তিনি। পাশাপাশি সোহান খেলেন ২০ বলে ২ চার ও ৩ ছক্কার মারে ৩৯ রানের ইনিংস।

দলীয় ১৫৪ রানের সময় ভাঙে সোহান-মেহেদির ৮৯ রানের জুটি। এরপর শেষের ১৩ বলে আরও তিন উইকেটের বিনিময়ে ১৫ রানের বেশি করতে পারেনি রাজশাহী। ফলে শেষপর্যন্ত তাদের ইনিংস থামে ৯ উইকেট ১৬৯ রানে। ইনিংসের একদম শেষ বলে রুবেল হোসেনকে ছক্কা হাঁকান ফরহাদ রেজা।

ঢাকার পক্ষে সফলতম বোলার মুক্তার। নিজের ৪ ওভারের স্পেলে মাত্র ২২ রানে ৩ উইকেট নেন মুক্তার। এছাড়া ১টি করে উইকেট শিকার করেন মেহেদি রানা, নাসুম আহমেদ ও নাইম হাসান। বাকি তিনটিই ছিল রানআউট।