করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন নিয়ে অসম নীতির কারণে বিশ্ব একটি ‘বিপর্যয়কর নৈতিক ব্যর্থতা’র মুখে দাঁড়িয়েছে  বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। মঙ্গলবার বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ডব্লিউএইচওর মহাসচিব টেড্রোস আধানম গেব্রিয়াসিস সোমবার এই সতর্কতার কথা উচ্চারণ করেন।

সোমবার জেনেভায় ডব্লিউএইচওর নির্বাহী বোর্ডের একটি বৈঠকের উদ্বোধনী বক্তব্য দেন গেব্রিয়াসিস। সে সময় তিনি জানান, বিশ্বের ৪৯টি ধনী দেশে ইতিমধ্যে ৩৯ মিলিয়ন ডোজের বেশি করোনার টিকা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, একটি গরিব দেশে মাত্র ২৫ ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে। ২৫ মিলিয়ন নয়, ২৫ হাজারও নয়, মাত্র ২৫টি।

ডব্লিউএইচওর মহাসচিব বলেন, করোনার ঝুঁকিতে থাকা গরীব দেশের নাগরিকদের আগে ধনী দেশগুলোর কম বয়সী ও স্বাস্থ্যবান লোকজনের টিকা পাওয়াটা মোটেই নৈতিক নয়। গেব্রিয়াসিস বলেন, তাকে রূঢ়ভাবে বলতে হচ্ছে যে, বিশ্ব এক বিপর্যয়কর নৈতিক ব্যর্থতার মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে। আর এই ব্যর্থতার মূল্য বিশ্বের দরিদ্রতম দেশগুলোয় জীবন ও জীবিকা দিয়ে দিতে হবে।

ধনী দেশগুলোর ‘আমিই প্রথম’ দৃষ্টিভঙ্গির তীব্র সমালোচনা করেন গেব্রিয়াসিস। বলেন, এই নীতি আত্মঘাতী হবে। কারণ, এই নীতি টিকার দাম বাড়িয়ে দেবে। টিকার মজুতকে উৎসাহিত করবে। ডব্লিউএইচওর মহাসচিব বলেন, শেষ পর্যন্ত এসব কর্মকাণ্ড মহামারিকে কেবল দীর্ঘায়িতই করবে। এটা থামাতে বিধিনিষেধ দরকার।

করোনার টিকা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোরও সমালোচনা করেন গেব্রিয়াসিস। তার অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানগুলো বৈশ্বিকভাবে ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে টিকার তথ্য ডব্লিউএইচওকে না দিয়ে ধনী দেশগুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে দিচ্ছে।

বিশ্বজুড়ে করোনার টিকার ন্যায্য প্রাপ্তির অঙ্গীকার এখন গুরুতর ঝুঁকিতে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন ডব্লিউএইচওর প্রধান। করোনার টিকা বণ্টনের বৈশ্বিক উদ্যোগ কোভ্যাক্সের বিষয়ে পূর্ণ প্রতিশ্রুতির ডাক দেন তিনি।

ডব্লিউএইচওর তত্ত্বাবধানে কোভ্যাক্স উদ্যোগের মাধ্যমে আগামী মাসে টিকার সরবরাহ শুরু হতে পারে। বিশ্বের ১৮০টির বেশি দেশ কোভ্যাক্স উদ্যোগে যুক্ত হয়েছে।  কোভ্যাক্সের উদ্দেশ্য হলো অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর জন্য ২০২১ সালের মধ্যে ২০০ কোটি টিকার ডোজ নিশ্চিত করা।

যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জার্মানিসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনার টিকা অনুমোদন পেয়েছে। জোরেশোরে এসব দেশে টিকা দেওয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা উদ্বেগের সঙ্গে বলছে, বিশ্বের নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলো এখনো করোনাভাইরাসের টিকা পায়নি। তারা ধারাবাহিকভাবে টিকার ন্যায্য বণ্টনের আহ্বান জানাচ্ছে।