সাধারণ প্রবণতায় অপরাধীরা অপরাধ করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। নিজেকে বাঁচাতে সমস্ত তথ্য-প্রমাণ নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা করে। আশ্রয় নেয় নানা ছলচাতুরির। তবে পালিয়ে গিয়েও শেষ রক্ষা হয় না। দুষ্কর্মকারীদের গতি পথের ওপর নজর রাখে ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, অজ্ঞাত অপরাধীকে শনাক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে এই ক্যামেরা।

সর্বশেষ মালিবাগের একটি বাসার বৃদ্ধাকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন করা গৃহকর্মী রেখাকে শনাক্ত করা এবং তার অপরাধ ধরা পড়ে সিসি ক্যামেরায়। আবার এর কয়েকদিন আগে বিমানবন্দর সড়কে ছিনতাই শেষে গাড়ি থেকে ফেলে দিয়ে ব্যবসায়ীকে হত্যার পুরো ঘটনাটিও ধরা পড়ে সড়কের সিসি ক্যামেরায়।

ডিবির (গোয়েন্দা) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, ‘সম্প্রতি গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অপরাধী শনাক্ত করা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ সড়কে বা বিভিন্ন জায়গায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করেছি। একইভাবে নিরাপত্তার স্বার্থে নিজের প্রতিষ্ঠান বা বাড়িতেও সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা উচিত।’

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ সূত্র বলছে, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, বাসা-বাড়ি স্থাপনাতে মোট ১৫ হাজারের মতো সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। যার মধ্যে সরকারি ও ব্যক্তিগত দুই ধরনেরই আছে। তবে প্রয়োজনে দুইটাই ব্যবহার করতে পারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আবার সরকারের প্রস্তাবিত সেফ সিটি প্রকল্পের আওতায় ডেভেলপমেন্ট অব ঢাকা সিটি ডিজিটাল মনিটরিং সিস্টেম এর নামে, রাজধানীকে নিরাপদ করার জন্য পুরো শহরকেই ক্লোজড সার্কিট (সিসি) টিভি ক্যামেরার আওতায় আনতে কাজ করছে পুলিশ।

 পুলিশ বলছে, গত বছরের শেষের দিকে ৩৮২টি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করে পর্বতারোহী রেশমা নাহার রত্নাকে গাড়িচাপা দেওয়া মাইক্রোবাসচালক নাঈমকে গ্রেফতার করা হয়। ওই বছরের ৭ আগস্ট ঢাকার সংসদ ভবন এলাকার চন্দ্রিমা উদ্যান সংলগ্ন লেক রোডে সাইক্লিং করার সময় গাড়ির ধাক্কায় রেশমা নাহার রত্নার মৃত্যু হয়। তখন সেখানে কেউ ছিলেন না।

এছাড়া বিভিন্ন দুর্ঘটনা, ছিনতাই, ডাকাতি ও হত্যার অনেক ঘটনার রহস্য উদঘাটন করা হচ্ছে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজের সূত্র ধরেই। সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা গেলে যত বেশি ক্যামেরা বসানো হবে ততটাই নিরাপদ হবে শহর।

তবে অভিযোগ আছে, রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোর বিভিন্ন পয়েন্টে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হলেও অযত্ন অবহেলায় সেগুলো নষ্ট হয়েছে। দীর্ঘদিন পড়ে থাকার পর মেরামত করাও সম্ভব হয়নি। তাই অনেক সময় ক্যামেরা থাকলে অপরাধীকে চিহ্নিত করা সম্ভব হয় না।

ডিএমপি কমিশনার শফিকুল ইসলাম  বলেন, ‘এত বড় শহরে কোটি মানুষের বসবাস। রাজধানীর নিরাপত্তায় প্রতিটি এলাকাকে নজরদারিতে আনতে চাই। একযোগে পুলিশ সদস্যদের সশরীরে প্রত্যেক জায়গায় রাখা সম্ভব হয়ে ওঠে না। তবুও প্রতিদিন আট হাজারের মতো পুলিশ সদস্য ডিউটি করেন। নিরাপদ নগরীর গড়ে তুলতে পুলিশের পাশাপাশি শহরজুড়ে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করতে কাজ করছি।’

ব্যক্তি পর্যায়ে সিসি ক্যামেরা
রাজধানীর মোহাম্মাদপুরের কাদেরাবাদ হাউজিং এর ৭ তলা বাড়ির মালিক সোহেল মাহমুদ। সম্প্রতি কয়েকটি বড় বড় চুরি ও ডাকাতির ঘটনায় নিজেদের নিরাপত্তার জন্য সিসি ক্যামেরা বসাতে চান তিনি। সোহেল মাহমুদ  বলেন, ‘ভবনের নিরাপত্তার জন্য কয়েকটি সিসি ক্যামেরা বসানো দরকার। কেউ যদি অপরাধ করতে চায়, তাহলে আমরা যেনও তাদের শনাক্ত করতে পারি। এছাড়াও সিসি ক্যামেরার ভয়ে দুষ্কৃতিকারীরা অপরাধ করার আগেও চিন্তা করবে একবার।’

শাহবাগে একতা ফার্মেসির মালিক আবদুল মালেক বলেন, ‘দোকানের সিসি ক্যামেরা বেশ আগে থেকেই আছে। সরাসরি এর সুবিধা না বোঝা গেলেও কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে প্রমাণ হিসেবে কিছু একটা আমাদের কাছে থাকবে। মনেকরি সবারই এই বিষয়ে সচেতন হওয়া উচিৎ।’