চট্টগ্রাম সংবাদদাতা :

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনে মামলা করেছেন নির্বাচনে পরাজিত বিএনপি মনোনীত মেয়রপ্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন। মামলায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা, নবনির্বাচিত সিটি মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা এম রেজাউল করিম, নির্বাচন কর্মকর্তা ও অন্য ছয় মেয়রপ্রার্থীকে আসামি করা হয়েছে।

বুধবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের বিচারক খাইরুল আমিনের আদালতে এ মামলা দায়ের করেন তিনি।

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, মেয়রপ্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন চসিক নির্বাচনের ভোটের হিসাব চেয়ে এখনও পাননি। কোনো কেন্দ্র থেকে ইভিএমের প্রিন্ট কপি দেয়া হয়নি। নির্বাচনে তাকে জোর করে হারিয়ে দেয়া হয়েছে। ভোটের দিন দুপুর পর্যন্ত ৪ থেকে ৬ শতাংশ ভোট পড়েছে। কিন্তু ভোটের হিসাবে দেখানো হয়েছে ২২ শতাংশ ভোট পড়েছে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী রেজাউল করিম সর্বোচ্চ ২৫ হাজার ভোট বেশি পেয়েছেন। কিন্তু তাকে আরও সাড়ে তিন লাখ ভোট যোগ করে মেয়র বানানো হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে মামলার বাদী ডা. শাহাদাত হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, মামলার ফল বাতিল চেয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট ৯ জনের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অভিযোগে মামলা করেছি। গত চসিক নির্বাচনে আমাকে জোর করে হারিয়ে দেয়া হয়েছে। নৌকা প্রতীক পাওয়ার পর থেকে চসিক কর্মকর্তারা রেজাউল করিমের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে দিয়েছিল। এ থেকে বুঝা যায় আওয়ামী লীগ শুধু আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছে।

গত ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী পেয়েছেন তিন লাখ ৬৯ হাজার ২৪৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মেয়রপ্রার্থী শাহাদাত হোসেন ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৫২ হাজার ৪৮৯ ভোট। নির্বাচনের পর থেকে কারচুপির অভিযোগ করে আসছিলেন ডা. শাহাদাত হোসেন ও তার দল বিএনপি।

এর মধ্যেই গত ১৫ ফেব্রুয়ারি রেজাউল করিম মেয়র হিসেবে দায়িত্বগ্রহণ করেন। তবে দায়িত্বগ্রহণ অনুষ্ঠানের চারদিন আগে

গত ১১ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে ভোটগ্রহণের তথ্য চাইতে যান বিএনপি মনোনীত মেয়রপ্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন। এসময় তিনি নির্বাচনে জোর করে হারিয়ে দেয়া অভিযোগ এনে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধের মামলা করার ঘোষণা দেন।