মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী শুক্রবার আরও আটজন বিক্ষোভকারীকে গুলি করে হত্যা করেছে। অংবান শহরে নিরাপত্তা বাহিনী অভ্যুত্থান বিরোধীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারগ্যাস ছোড়ে। এরপর বিক্ষোভকারীদের একটি ব্যারিকেড সরিয়ে দিতে তারা গুলি চালায়। খবর রয়টার্সের।

এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘নিরাপত্তা বাহিনী ব্যারিকেড সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলে জনগণ তাতে বাধা দেয়। তখন তারা গুলি ছোড়ে।’ অংবানের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সেবার এক কর্মকর্তা জানান, আটজন মারা গেছেন। সাতজন ঘটনাস্থলে মারা যান। একজনকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

ইয়াঙ্গুনের স্থানীয়রা জানান, পুলিশ সাধারণ জনগণকে বিক্ষোভকারীদের ব্যারিকেড সরাতে বাধ্য করেছে। এছাড়া মান্দালয়, মিয়ানগ্যান, কাথা ও মিয়াওয়াডিতেও অভ্যুত্থান বিরোধীরা শুক্রবার বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে।

মিয়ানমারের জান্তা সরকারের মুখপাত্রের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
গত ১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারের সেনাবাহিনী অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশটির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করে। অভ্যুত্থানের পর এনএলডির নেতা অং সান সুচি ও মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টসহ সরকারের অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী-এমপিদের আটক করে সেনা সরকার।

অভ্যত্থানের পরপরই মিয়ানমারের সাধারণ জনতা রাজপথে বিক্ষোভ শুরু করে। বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার জনগণ কাজে ইস্তফা দিয়ে প্রতিদিন বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে। জান্তা সরকার এসব বিক্ষোভের প্রতি প্রথম দিকে সহনশীলতা দেখালেও কিছুদিনের মধ্যে চরম সহিংসভাবে দমন করা শুরু করে। এ পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ২৩২ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন।