বগুড়া সংবাদদাতা :

লন্ডনের খুনী জন জর্জ হাই, ইকুয়েডরের পেদ্রো লোপেজ কিংবা সারা পৃথিবীতে শিশু হত্যার জন্য কলম্বিয়ার আলোচিত খুনী লুইস গারাভিতো। এদের কোনোজনের সঙ্গেই কোনো সম্পর্ক নেই বগুড়ার খুনী মনজু মিয়ার (৩৪)। কিন্তু তাদের কাজের ধারা অনুসরণ করতেন তিনি। পৃথিবী কাঁপানো এই খুনীদের মতোই মাসের পর মাস ধরে খুনের পরিকল্পনা করা, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহ করা এবং টার্গেটকে নজরদারি রাখার বিষয়টি রপ্ত করেছেন অজপাড়াগাঁয়ের এই কিলার।

তার প্রথম মিশনে ৬ বছরের শিশু হানজালাকে অপরহণের পর নির্মম হত্যা শেষে লাশটি গুম করতে বিশেষ প্রক্রিয়ার সাহায্য নেন তিনি। পরে মুক্তিপণ না পেয়ে তারই দেয়া তথ্য অনুসারে পুলিশ ১ মাস ৮ দিন পর বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে মমি আকৃতিতে সংরক্ষণ করে রাখা শিশুটির লাশ উদ্ধার করে।

তথ্য প্রযুক্তিতে পারদর্শী এসএসসি পাস এই খুনীকে গ্রেফতার করতে পুলিশের সময় লাগে প্রায় সাড়ে ৩ মাস। গত ২১ জানুয়ারি সন্ধ্যায় গাবতলী উপজেলার নিশুপাড়া গ্রামের একটি ডোবা থেকে স্কচ টেপ পেঁচিয়ে-পলিথিনে মুড়িয়ে ইট বেঁধে ডুবিয়ে রাখা অবস্থায় হানজালার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
এরআগে ১৩ ডিসেম্বর বিকেল ৩টার দিকে শিশু হানজালা বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। ওইদিনই গাবতলী থানায় জিডি করা হয়।

হানজালা গাবতলী উপজেলার রামেশ্বরপুর ইউনিয়নের নিশুপাড়া গ্রামের পিন্টু প্রামানিকের ছেলে। অপহরণের পর শিশুর মা তাসলিমা বেগমের ফোনে মুক্তিপণ হিসেবে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয়। কিন্তু শিশুর ছবি দেখাতে না পারা এবং তার সাথে কথা বলতে না পারার কারণে শেষ পর্যন্ত দাবিকৃত টাকা দেয়নি হানজালার পরিবার। এরপর ঘটনার ৩৮ দিন পর নিজ বাড়ির অদূরে একটি ডোবায় পায়ে ইটবাঁধা ডুবন্ত লাশটি উদ্ধার হয়।

পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা বলেন, মাদক সেবনের টাকা সংগ্রহ এবং ঋণের টাকা পরিশোধের জন্য মনজু ঘটনার ২০ দিন আগে অপহরণের পরিকল্পনা করে। প্রতিবেশী মনজুকে মামা বলতে ডাকত শিশু হানজালা। সেই সূত্রে প্রায়ই হানজালা তাদের বাড়ির পাশে অবস্থিত মনজুর ওষুধের দোকানে যেত।

গত ১৩ ডিসেম্বর বিকেলে মনজু নিশুপাড়ায় তার ওষুধের দোকানে বসে ইয়াবা সেবন করছিল। এসময় হানজালা তার দোকানে যায়। এরপরই পূর্বপরিকল্পনা মতো সে হানজালার মুখে স্কচটেপ লাগিয়ে বেঁধে ফেলে। পরে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।

মৃত শিশুটির নরম দেহের পুরোটাই স্কচটেপ দিয়ে পেঁচিয়ে পিরামিড আকৃতি দেয়। পচন রোধে বাতাস চলাচল সম্পৃর্ণভাবে সিল করে। এরপর দোকানের একটি কাভার্ডের ভেতরে লাশটি রেখে দেয়। ঘটনার ১২ ঘণ্টা পর গভীর রাতে মমি আকৃতির লাশটি একটি বস্তায় ভরে পায়ের সাথে ৩টি ইট বেঁধে বাড়ির পাশের একটি বদ্ধ ডোবার পানিতে ফেলে রাখা হয়।

অনুসন্ধানকালে খুনী মনজু সম্পর্কে মিলেছে চমকপ্রদ তথ্য। জেলার গাবতলী উপজেলার নিশুপাড়া গ্রামের কৃষক পরিবারের সন্তান মনজু পরিবারের ছোট ছেলে। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্থানীয় গাবতলী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করার পর আর পড়ালেখা করেননি। পরবর্তীতে ২০১৩ সালে শ্রমিক ভিসায় ওমান যান।

সেখানে সাড়ে ৪ বছর ধরে অবস্থানকালে তিনি মোবাইলে ক্রাইম সিরিজগুলো দেখার অভ্যাস করেন। একই সাথে রপ্ত করেন ভয়েস চেঞ্জার অ্যাপ ব্যবহার করে কিভাবে বিকৃত পুরুষ কিংবা নারী কণ্ঠে কথা বলা যায়।

ভয়েস চেঞ্জার অ্যাপস ব্যবহার ও ইউটিউবে ক্রাইম সিরিজগুলো দেখা প্রসঙ্গে বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আলী হায়দার চেীধুরী বলেন, তার ব্যবহৃত ডিভাইজ মামলার স্বার্থে জব্দ করা হয়েছে। সেখানে বেশ কিছু ক্লু পাওয়া গেছে। তাদের এই অভিযানে ডিবির ইনচার্জ আব্দুর রাজ্জাক, পরিদর্শক ইমরান মাহমুদ তুহিনসহ ডিবির চৌকশ একটি দল সার্বক্ষণিক কাজ করেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, খুনী মনজুর কাছে থেকে যে দুইটি মোবাইল ফোন পাওয়া গেছে, তার একটিতে সে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলে অন্য একটি মোবাইলে ম্যাজিক ভয়েস অ্যাপ ইনস্টল করেছিল। যে মোবাইলে ম্যাজিক অ্যাপ ইনস্টল করা আছে সেটি সিমফনি সিরিজের একটি কমদামি বাটন ফোন। আর ইন্টারনেট ব্যবহার করে বিভিন্ন বিষয় জানতে যে ফোন ব্যবহার করেছে হাওয়াই কোম্পানীর ওয়াই-৫ প্রাইম মডেলের একটি ফোন। এই ফোনটির মাধ্যমেই সে বিভিন্ন ক্রাইম সিরিজ দেখার পাশাপাশি অপরাধ জগৎ বিচরণ করত।

মনজুর প্রিয় ছিলো জনপ্রিয় ভারতীয় সিরিজ আদালত। এই সিরিজের নায়ক আইনজীবী কেডি পাঠক একজন সাহসী, বুদ্ধিমান এবং অধ্যবসায়ী। সত্যের সন্ধানে নিজেকে উজাড় করে দিতে পিছপা হন না। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উদঘাটন করে চলেন একের পর এক লুকায়িত সত্য।

কিন্তু মজনু ভেবে নিয়েছিল সে এই ঘটনায় কোনো প্রতিবন্ধকতার শিকার হবে না। যার কারণে আদালত সিরিজের বাংলা এপিসোড মিশরীয় মমি নামক সিরিজ দেখে সে লাশ সংরক্ষণ করার উপাই জানতে পারে। তার জানা ছিলো মানুষ মারা যাওয়ার পর থেকেই তার শরীর দ্রুত পচতে শুরু করে যাকে বলা হয় ‘ডিকম্পোজিশন’। প্রথমে শরীরে থাকা এনজাইম কোষগুলো অবমুক্ত হতে শুরু করে এবং এক পর্যায়ে গোটা শরীরে থাকা ব্যাকটেরিয়া এবং মাইক্রোঅর্গানিজমগুলো পচতে শুরু করে। শরীরে থাকা পানি এবং চর্বি সরিয়ে তার জায়গায় পলিমার থাকলে এই পচে যাওয়া রোধ হয়।

প্লাস্টিনেশন শরীরের ব্যাকটেরিয়াগুলোকে টিকে থাকতে দেয় না, ফলে শরীরও আর পচতে পারে না। আর পঁচলেও সেটি দীর্ঘ সময় নেয় এবং গন্ধ ছড়ায় না বললেই চলে।

প্লাস্টিনেশনের মাধ্যমে শরীরকে দুইভাবে সংরক্ষণ করা হয়। একটা হলো কাগজের মতো পাতলা করে মৃত শরীরটিকে কেটে কেটে রাখা। নয়তো পুরো আস্ত শরীরটাকেই বিভিন্ন ভঙ্গিতে সিল করার মতো বেঁধে রেখে দেওয়া।

বাতাসের সংস্পর্শে না আসার ফলে শরীরের কোষগুলোর ‘ডিকম্পোজিশন’ বা দ্রুত পচন প্রক্রিয়া থেমে যায়। এরপর গোটা শরীরটাকে মোটামুটি ঠান্ডা তাপমাত্রায় চুবিয়ে রাখা হয়। সাধারণরত এই প্রক্রিয়ায় একটি লাশ ২ থেকে ৬ মাস পর্যন্ত গন্ধহীন উপায়ে প্রায় অবিকৃত রাখা সম্ভব।

মনজুর জানা ছিলো বিশেষ প্রক্রিয়ায় মৃতদেহ কখনোই পঁচে না বা প্রাকৃতিকভাবে ধ্বংস হয় না। কারণ বিভিন্ন কেমিক্যাল আর ওষুধ দিয়ে কাপড় বা ব্যান্ডেজ পেঁচিয়ে মৃতদেহটিকে পঁচন থেকে রক্ষা করা যায়। এতে গন্ধও ছড়াবে না।

মনজু পুলিশকে জানিয়েছে সে ‘আদালত’ সিরিজ দেখে মূলত লাশ সংরক্ষণের উপায় জেনেছে। আর ‘ক্রাইম পেট্রোল’র ৬৬৫ নম্বর এপিসোড দেখে শিখেছে কীভাবে একই পরিবারের সাথে মিশে গিয়ে বাড়ির শিশু সন্তানকে অপহরণ করা যায়। কোন উপায়ে লাশ গুম করে অপহৃত শিশুর পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা যায় এবং মুক্তিপণ না পেলে ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে তাকে মেরে লাশ গুম করতে হয়।

ক্রাইম পেট্রোলের ওই পর্বে শিশু সমরের চাচাতো ভাই ভীরু ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণের দাবিতে ভাইকে অপহরণের পর হত্যা করে। আর বগুড়ার খুনী মনজু ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণের দাবিতে তার প্রতিবেশী ভাগ্নে হানজালাকে অপহরণের পর হত্যা করে।

পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে মনজু আরও জানায়, আদালত দেখেই সে শিখেছে সেলফ হেল্প ইজ দ্যা বেস্ট হেল্প। কেডি পাঠকের এই সূত্র সে নিজের বেলাতেও কাজে লাগিয়েছে। সেই কারণে ১৩ ডিসেম্বর বিকেলে শিশু হানজালাকে খুন করার পরও সে ওই পরিবারের পাশে থেকেছে। এলাকায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে যোগ দিয়েছে। এমনকি একাধিকবার শিশুটির বাড়িতে গিয়ে বাবা-মাকে সান্ত্বনা দিয়ে তাদের তৎপরতা সম্পর্কে জানার চেষ্টা করেছে।

মনজু অন্তত্য ধুর্ত এবং চতুর ঠান্ডা মাথার খুনি। সে খুন করে লাশ গুম করার ৬ দিন পর হানজালার পরিবারের কাছে মুক্তিপণ চেয়ে যোগাযোগ করে। এরআগে সে বগুড়া শহরে এসে সিম কেনার জন্য গরিব অসহায় মানুষদের খোঁজ করতে শুরু করে। প্রথমে তার টার্গেটে পড়ে যায় পৌর পার্কে অবস্থানরত পঙ্গু ফকির আনন্দ চন্দ্র দাস। তাকে প্রতিবন্ধী ভাতা পাইয়ে দেয়ার প্রলোভন দিয়ে শহরের সাতমাথা এলাকা থেকে একটি গ্রামীণ সিম সংগ্রহ করে। এরপর কৌশলে তার কাছ থেকে সটকে গিয়ে সিমফনি সিরিজের একটি ফোন কিনে নেয়। এই ফোন দিয়ে ঘটনার ৬ দিন পর অপহৃত হানজালার মা তাসলিমা বেগমকে ফোন দেয়।

ম্যাজিক ভয়েসে গলার স্বর পাল্টিয়ে সে নিজেকে অপহরণকারী সদস্য বলে পরিচয় দেয় এবং শিশু ফেরত নিতে হলে ৫ লাখ টাকা নিয়ে সিরাজগঞ্জের সোনামুখি বাজারে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। এরপর থেকে দফায় দফায় ওই পরিবারের একাধিক সদস্যের সাথে কথা বললেও এক সিম নম্বর কিংবা লোকেশন ব্যবহার করা হয়নি। ভিন্ন ভিন্ন নম্বর থেকে ফোন দিয়ে টাকা দাবি করলে হানজালার মায়ের সন্দেহ হয় এবং সে তার ছেলের ছবি কিংবা ভিডিও দেখতে চায়।

এটি দেখাতে ব্যর্থ হলে তারা ভুয়া কলদাতা ভেবে টাকা প্রদান করা থেকে বিরত থাকে। একই সাথে পুলিশও মামলাটি শনাক্ত করতে রাতদিন কাজ করতে থাকে। কিন্তু পেশাদার খুনিদের মতোই চতুর মনজুর নাগাল পেতে তাদের সময় লেগে যায় প্রায় সাড়ে ৩ মাস।

এরআগে মোবাইলে মনজুর দেয়া তথ্যমতো অপহরণের ৩৮ দিন পর বাড়ির পাশের ডোবা থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়। পায়ে ইট বাঁধা লাশটির শরীর একটি বিশেষ ভঙ্গিমায় বাঁকানো ছিলো। আশপাশের এলাকায় কোনো পচা গন্ধ না ছড়ালেও স্কচটেপে প্যাঁচানো লাশটি খোলার পর চেহারা ও শরীর বিকৃত অবস্থায় দেখা গেছে।

মনজুকে শনাক্ত করতে বগুড়া পুলিশের বিশেষ টিমটি সাড়ে ৩ মাসে ৩৫০০ সিমের উপর নজরদারি করেছে। শেষে মোট ৫টি নম্বর তারা শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। খুনি মনজু বিভিন্ন এলাকার অসহায় দরিদ্র মানুষকে অর্থের লোভ দেখিয়ে তাদের এনআইডি ব্যবহার করে সিমগুলো সংগ্রহ করেছিল।

ভিন্ন ভিন্ন নম্বর থেকে সে শিশু হানজালার পরিবারের সাথে কথা বলত, একেকবার একেক এলাকায় গিয়ে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে এসব সিমের মালিকের সন্ধান পেলেও তাদের সাথে প্রতারনার বিষয়টি জেনে নতুন উপাই খুঁজত।

এরই মাঝে একটি ভুল করে বসে খুনি মনজু। সে নতুন একটি সিম দিয়ে ভয় দেখাতে ফোন করে রামেশ্বরপুর ইউনিয়ন পরিষদের একজন সদস্যকে। এই সময় সে একই মোবাইল সেট ব্যবহার করে। যার আইডেনটিফিকেশন নম্বর আগের নম্বরগুলোর সাথে মিলে যায়।

পরে পুলিশ ওই সিম সংগ্রহকারী অতুল চন্দ্র দাসকে খুঁজে বের করে ওই দোকানে যায়। সেখানে সিসি ক্যামেরায় মুখে মাস্ক পরা অবস্থায় চতুর খুনি মনজুর দেখা মেলে। এরপর শুক্রবার সন্ধ্যায় বগুড়ার গাবতলী উপজেলার নিশুপাড়া গ্রাম থেকে মনজু মিয়াকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। মনজু ওই গ্রামের আব্দুল জব্বারের ছেলে।

পুলিশ আরও সুপার জানান, অপহৃত শিশুর বাবা মালয়েশিয়ায় চাকরি করতেন। তিনি সন্তান অপহরণের খবর পেয়ে এক সপ্তাহ পর দেশে ফিরে আসেন। তাদের পরিবারটি মোটামুটি অবস্থাসম্পন্ন। এ কারণেই প্রতিবেশী খুনি মনজু এই পরিবারের শিশু সন্তানকে টার্গেট করে পরিকল্পনা করে। সে লাশ গুম করার পরও ডোবার ধারে গিয়ে নিয়মিত লাশটি পর্যবেক্ষণ করত যে তার সূত্র কাজ করছে কি না। অর্থাৎ কোনো গন্ধ ছড়ানো কিংবা পানিতে বুদবুদ উঠছে কিনা। এই কাজগুলো দুর্বল হৃদয়ের মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। এ কারণে বোঝাই যায় সে পেশাদার খুনির চাইতে কোনো অংশেই কম নয় বলে দাবি করেন পুলিশ সুপার।

আলী আশরাফ ভূঞা দাবি করেন, পুলিশ অনেক আগেই খুনিকে শনাক্ত করতে পারত। কিন্তু প্রথম দিকে শিশু হানজালার পরিবার তাদের সহযোগিতা করেনি। এই পরিবারটি প্রাচীন ধারণায় বিশ্বাসী। এলাকার কিছু কবিরাজ ফকিরের তথ্য মতো তারা ভেবে নিয়েছিল হানজালাকে পরী ধরে নিয়ে গেছে। হয়ত একদিন তাকে ফেরত দিয়ে যাবে। এসব কারণে মামলাটি শনাক্ত করতে সময় লেগেছে।