1. dailyfulki04@gmail.com : fulkinews24 :
শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:০৫ অপরাহ্ন
করোনা সর্বশেষ :

করোনাভাইরাসে গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত ২১৮ জনের মধ্যে পুরুষ ১৩৪ জন এবং নারী ৮৪ জন তাদের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ১৫৬ জন এবং বেসরকারি হাসপাতালে ৪৯ জনের মৃত্যু হয়

ধামরাইয়ে আকসির নগর আবাসিক প্রকল্পের মামলায় গ্রামবাসী নাকাল

  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ৩১ জুলাই, ২০২১
ধামরাইয়ে কুল্লা ইউনিয়নের মামুরা এলাকায় কাইজারকুন্ড, মাখুলিয়া, সীতি, সাস্তাপুর, সাচনা মৌজায় কৃষি জমিতে বালু ভরাট করে আকসির নগর নামের একটি আবাসন প্রকল্প গড়ে উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কেনা জমির আশপাশের অন্যরে জমিতেও মাটি ভরাট করা হচ্ছে। এসবের প্রতিবাদ করায় প্রকল্পের শুরু থেকেই প্রায় দুই বছর ধরে এলাকাকার সংখ্যালঘু পরিবারসহ মেয়ে ও পুরুষদের নামে ধামরাই থানা ও আদালতে প্রায় ডজনখানেক চাঁদাবাজি, ভাংচুর, চুরি, হত্যা চেষ্টাসহ বিভিন্ন ধরণের অভযিোগে মামলা দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে আকসির নগর আবাসন প্রকল্প কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। এসব মামলায় আদালতে হাজিরা দিতে দিতে নাকাল হয়ে পড়েছে গ্রামবাসী।
বিভিন্ন মামলার অভযিোগ জানা গেছে, বিভিন্ন ধারার মামলার আসামি করা হয়েছে মামুরা, বড় কুশিয়ারা, মাখুলিয়া, কাইজারকুন্ড এলাকার বাসিন্দাদের। তবে অধিকাংশ মামলায় আসামি করা হয়েছে আনোয়ার, শওকত, খোরশেদ, ভঞ্জন রায়, আফসান, ইমরান, মালেক, জসিম উদ্দিন, আরিফ মিয়া, বান্দা মালো, অবিনাশ মালো, পরি মালো, এরশাদ, দুর্জুন, আরজু, বম্বল, গর্জন, সোরহাব, কুদ্দুস, খালেক, কাদের, সাইদুর, ইদ্রিস আলী, বদরুল সরদার, বারেক, রুবেল, জিয়া, সালামসহ অনেককে। এরমধ্যে আফসানের অবিবাহিত মেয়ে আখি আক্তার (২০) ও তার স্ত্রী রেখা আক্তারকেও আসামি করা হয়। মামলা দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে প্রতিবাদের মুখ বন্ধ করার জন্য অধিকাংশ পরিবার থেকে মামলায় আসামি করা হয়। গত ফেব্রুয়ারী মাসে মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে সংখ্যা লঘু পরিবারের ভঞ্জন রায়ের পা ভেঙ্গে দেওয়ার মত ঘটনা ঘটিয়েছে আকসির নগর আবাসন কর্তৃপক্ষ। ভঞ্জন রায় দীর্ঘ চারমাস ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীণ ছিলেন।
গত বৃহস্পতিবার রাতেও ভঞ্জন রায়সহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে ধামরাই থানায় (মামলা নং-৩৩)। এতে আসামি করা হয়েছে মাখুলিয়া গ্রামের সাইদুর রহমান (৪৮), বদরুল সরদার (৪০), বড়কুশিয়ারা গ্রামের শওকত আলী (৩৮), ভঞ্জন রায় (৪৫), মাখুলিয়া গ্রামের মনসুর আলী (৪০), মামুরা গ্রামের পলান আলী (৪৫)সহ অজ্ঞাত ৬ থেকে সাতজন। যাদের আসামি করা হয়েছে এদের বিরুদ্ধে থানায় ও আদালতে প্রায় অর্ধডজন মামলা করেছে আকসির নগর আবাসন কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে যারা অন্যায়ের প্রতিবাদ করে আসছে এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে আকসির নগর আবাসন প্রকল্পের বিরুদ্ধে সাক্ষাতকার দিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধেই মামলা করা হয়েছে বলে জানান ভুক্তভোগিরা। এ মামলায় বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দিনে ও রাতে কয়েক দফা আসামিদের বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। পুলিশি তৎপরায় কয়েকটি গ্রামের পুরুষরা রাতের বেলা বাড়িতে থাকে না বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।
মামলা (নং-৩৩) থেকে জানা গেছে, কুল্লা ইউনিয়নের সাস্তাপুর মৌজায় আড়াই শতাংশ জমির মালিক মাখুলিয়া গ্রামের আইয়ুব আলীর ছেলে ওবায়দুল ইসলাম (২৬)। ওই জমিতে বাড়ি করার উদ্দেশ্যে ২২ জুন সকাল নয়টার সময় মাটি ভরাট করতেছিলেন ওবায়দুল ইসলাম। ওই সময় আসামিরা বাধা দেন এবং তাকে বেদম মারপিট করেন। এরপর তার পকেটে থাকা ৬০ হাজার দুইশত টাকা এবং দুটি মোবাইল ফোন সেট (যার মূল্য ৩৭ হাজার টাকা) ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনা উল্লেখ করে বৃহস্পতিবার রাতে মামলা করেন ওবায়দুল ইসলাম।
ওবায়দুল ইসলাম আকসির নগর আবাসন প্রকল্প অফিসের কেয়ারটেকার ছিলেন। বর্তমানে মার্কেটিং এর দায়িত্বে আছেন বলে জানান আকসির নগর আবাসন প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তৌহিদুল ইসলাম। মামলার বাদি ওবায়দুল ইসলামের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়েই তিনি সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি আর রিসিভ করেননি।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, এলাকার অনেকের কাছ থেকে কৃষি জমি ক্রয় করে বালু ফেলে ভরাট করে আকসিন নগর নামে একটি আবাসন প্রকল্প গড়ে তোলা হয়ছে।েভরাটের সময় অন্যের জমিতেও বালু ফেলা হচ্ছে জোরপূর্বক। এতে মামলা হামলার ভয়ে কেউ কিছু বলতে সাহস করছে না। এ ভুক্তভোগী বদরুল সরদার বলেন, আকসির নগর আবাসন প্রকল্পের র্কতৃপক্ষরে কথা না শুনলে এবং যারা তার অন্যায় কাজের প্রতিবাদ করছে তাদের বিরুদ্ধেই মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগী ভঞ্জন রায়, সাইদুর রহমান ও বদরুল সরদার বলেন, থানায় গেলে পুলিশ মামলা নেয় না। অথচ আকসির নগর আবাসনের কেউ যদি অভিযোগ দেয় সঙ্গে সঙ্গে পুলিশি এ্যাকশন শুরু করে গ্রাম ছাড়া করে দেয়। ফলে আকসির নগর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না।
এ বিষয়ে ধামরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, ‘আকসির নগর আবাসন প্রকল্পের বিরুদ্ধে এক ব্যক্তি জিডি করে গেছেন। এছাড়া আকসির নগর আবাসন প্রকল্প দ্বারা যদি কোন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি অভিযোগ দেন তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে’।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কালিপদ সরকার বলেন, আকসির নগর আবাসন কর্তৃপক্ষ এলাকাবাসির বিরুদ্ধে মামলা হামলা করে হয়রানি করতেছে এটা সত্য। তিনি আরো বলেন, আকসির নগর আবাসন কর্তৃপক্ষের দখল প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে এলাকাবাসি কয়েকবার মানববন্ধন, সভাসমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে। আমিও এতে অংশ গ্রহন করেছি। স্থানীয় এমপিসহ উপজেলা প্রশাসনের কাছে ক্ষতিগ্রস্তরা একাধিকবার অভিযোগ দিয়েছে কিন্তু কোন কাজই হয়নি। বরং তারা দিনদিন কৃষি জমিতে মাটি ভরাট করে আবাসন প্রকল্প আরো সম্প্রসারিত করছে। সরকারিভাবে এটা বিহিত করা দরকার বলে মনে করছেন চেয়ারম্যান কালিপদ সরকার।
আকসির নগর আবাসন প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তৌহিদুল ইসলাম বলেন, আমি কারো বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানি করিনি। যারা আমার প্রকল্পে মাটি ভরাটের ব্যবসা করতে চেয়েছিল তারাই আমাকে উল্টো হয়রানি করতেছে।

শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © FulkiNews24
Go to Fulki TV